স্থায়ী ক্যাম্পাসসহ ১২ দফা দাবিতে তিন শতাধিক গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ছাত্রদলের
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ১২ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসব দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে গণস্বাক্ষরে অংশ নেন পাঁচ অনুষদের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য প্রফেসর নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু, ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান পুনর্বিবেচনা ও বাতিল এবং সেমিস্টার ফি যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আধুনিক ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি ও গবেষণাগার নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন, যোগ্য শিক্ষকদের নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি এবং বিদ্যমান একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিতে জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণতদন্ত কমিশন গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের বিষয়টি মূল্যায়নের দাবি রয়েছে।
শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চার ব্যবস্থা করার দাবিও রয়েছে ১২ দফায়। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও স্বাভাবিক ক্যাম্পাস জীবন ব্যাহত হয়—এমন অপ্রয়োজনীয় নতুন নিয়ম প্রণয়ন ও হয়রানিমূলক ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে।
দাবিপত্রে বলা হয়, এসব দাবি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; বরং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
দাবিপত্র গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রতিটি দাবি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। দাবিগুলোর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করার জন্য প্রশাসন আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দাবিগুলো উপস্থাপনের সময় ছাত্রদল নেতা মুশফিকুর রহমান ও আসিফ হোসেন নেতৃত্ব দেন। এ সময় সোহেল রানা, এন কে মুশফিকুর রহমান, আহসান হাবিব, রাজু, ইসতিয়াক ও রোমেলসহ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী দাবিগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে গণস্বাক্ষরে অংশ নেন।
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশ আরও উন্নত হবে।