০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০৫

২ মাস আগে সরানো সেই গোবিপ্রবি উপাচার্য এবার আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি

অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর  © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরকে ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (তৎকালীন বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছিল ওই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন। এবার সেই ঢাবি অধ্যাপককে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শীর্ষ একজনের সুপারিশে তাকে নতুন করে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে এতে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (সংশোধিত-২০২৫)-এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের প্রফেসর ড. হোসেন উদ্দিন শেখরকে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এক্ষেত্রে ৫টি শর্ত আরোপ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এগুলো হলো—উপাচার্য পদে তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে ৪ বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ—এর মধ্যে যা পূর্বে ঘটে সেই সময় পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন; এই পদে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন; তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন; তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

ভিসি নিয়োগের পর প্রজ্ঞাপন উধাও
২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তৎকালীন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই দিন বিকেল ৩টার পর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যদিও ঘণ্টাখানেক পর ওয়েবসাইটে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ওয়েবসাইট থেকে উধাও প্রজ্ঞাপন, বশেমুরবিপ্রবি ভিসির নিয়োগ নিয়ে ধোঁয়াশা

ওই সময় গুঞ্জন ওঠে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরকে ভিসি হিসেবে যোগদান করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তার নিয়োগ স্থগিত বা বাতিল হতে পারে বলেও গুঞ্জন ওঠে। যদিও ড. হোসেন উদ্দিন শেখর পরদিন সকাল ৯টায় ভিসি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর ১ বছর ৮ মাস ২০ দিন এই পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চলতি বছরের ১৯ জুলাই ড. মো. নাজমুস সাদাত তার স্থলাভিষিক্ত হন।

মুজিব হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাবা
ড. হোসেন উদ্দিন শেখরের বাবা তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার অভিযোগে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। পরে তিনি মামলা থেকে খালাস পেয়েছিলেন। ২০০৪ সালের ২০শে অক্টোবর মেট্রোপলিটন দায়রা জজ আদালত (ট্রায়াল কোর্ট) ঠাকুরকে জেলহত্যা মামলার অপর অভিযোগ থেকে মুক্তি দেন।

গোবিপ্রবি ভিসি নিয়োগের সময় ড. হোসেন উদ্দিন শেখর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছিলেন, তার বাবা মামলা থেকে খালাস পেয়েছিলেন। তার ভাষ্য, আপনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তো হবে না। সেটা যদি প্রমাণ না হয় তাহলে তো আমি আর অপরাধী না— বিষয়টি এমনই।

নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর থেকে আমার পুরো পরিবার কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়নি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে তো আমার একাডেমিক যোগ্যতা বিচার করা হবে। এখানে তো অন্যকিছু নিয়ে প্রশ্নই আসে না। এজন্য বাবার ঘটনার সঙ্গে ভিসি নিয়োগ বাতিল হওয়ার বিষয়টি তিনি নাকচ করেছেন।

ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাদা দলের একজন সিনিয়র শিক্ষক তার সম্পর্কে বলেছিলেন, ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত নন সেটা নিশ্চিত। তবে বিএনপিপন্থীও নন। কেননা সাদা দলের কোনো প্রোগ্রামে তিনি আসতেন না। তাই আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জামায়াত সংশ্লিষ্টতা তার নেই।