খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আইডিয়া টু ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক কর্মশালা
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশের লক্ষ্যে ‘আইডিয়া টু ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ এগ্রিকালচার অলিম্পিয়াড, ক্যাম্পাস কানেক্টেড ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ জনের বেশি চিন্তাশীল ও আগ্রহী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন SAEEC ও ক্যাম্পাস কানেক্টেডের আহ্বায়ক মো. সজল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব প্রোগ্রামের মেন্টর মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, এনিমেলিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিএমও রাকিব হাসান মুবিন এবং মিটব্রোসের কো-ফাউন্ডার মোহাম্মদ আরমান হাবিব।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের খুলনা জেলা প্রতিনিধি মহরম হাসান মাহিমসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
আলোচনায় মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের চিন্তা ও ধারণাকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে হবে। একটি ভালো আইডিয়া তখনই সফল হয়, যখন সেটিকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
রাকিব হাসান মুবিন বলেন, বর্তমান সময়ে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য শুধু অর্থ বা বড় কোনো সুযোগের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন সমস্যা চিহ্নিত করার সক্ষমতা, নতুনভাবে চিন্তা করার অভ্যাস এবং সেই চিন্তাকে বাস্তবে প্রয়োগ করার সাহস। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট সমস্যা নিয়ে কাজ করেই বড় উদ্যোগের সূচনা করা সম্ভব।
মোহাম্মদ আরমান হাবিব বলেন, একটি সফল উদ্যোগের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের প্রয়োজন বোঝা। শিক্ষার্থীদের নিজেদের চারপাশের সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করে সেখান থেকে সম্ভাবনাময় আইডিয়া খুঁজে বের করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, দলগত কাজ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সাধারণ ধারণাকেও কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া সম্ভব।
ক্যাম্পাস কানেক্টেডের আহ্বায়ক মো. সজল আহমেদ বলেন, “শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষাই নয়, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা মনোভাব ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে বিকশিত করাও জরুরি। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আজকের এই কর্মশালা ভবিষ্যতের উদ্যোক্তা ও ইনোভেটর তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।”
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আলোচনা, আইডিয়া উন্নয়ন, উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক ধাপ এবং একটি ধারণাকে কীভাবে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়া যায় এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মশালা ভবিষ্যতেও আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।