লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে উপাচার্য বাসভবন অভিমুখে সিকৃবি শিক্ষার্থীরা
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে হল প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে পৌঁছায়। পরে উপাচার্য নেমে এলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ড. মোঃ আলিমুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
সিকৃবির শাহ পরান (রহ.) হলের আবাসিক শিক্ষার্থী কৃষি অনুষদের সানোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা আজ সবাই ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের একটি স্থায়ী সমাধানের দাবিতে একত্রিত হয়েছি। আমাদের নিয়মিত পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্ট চলমান থাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছাড়া পড়াশোনা করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে আমরা ভিসি স্যার এবং প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেছি"
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছি এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানে তারা কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান পায়। প্রশাসন আমাদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সমস্যাটির একটি স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ব্যাপারে জানতে সিকৃবির প্রকৌশল দপ্তরের (বিদ্যুৎ) দায়িত্বে থাকা আল-মামুন আকন্দ এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আলাদা সুবিধার দাবির প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বর্তমানে দুটি ফিডার করা হয়েছে যার কারণে লোডশেডিং আগের চেয়ে কিছুটা কম হচ্ছে। গতকালের ভোল্টেজ আপডাউনের মূল কারণ ছিল মাদানি পয়েন্টের ফিডারের তিনটি ফিউজের মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া। অন্যদিকে, আজ ৩৩ কেভি লাইনের ইকো পার্ক ফিডারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের গ্রিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্রুটি ধরার ব্যবস্থা না থাকায় সকাল ১১টা থেকে ম্যানুয়ালি চেক করে সমস্যাটি বের করতে হয়েছে এবং বর্তমানে এর মেরামতের কাজ চলছে। আমাদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি ডেডিকেটেড বিদ্যুৎ লাইনের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এটি বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন। কারণ আম্বরখানা সাবস্টেশন থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন টানা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি কাজ। তাই আমি উপাচার্য মহোদয়কে অনুরোধ করছি তিনি যেন রিভাইজড বাজেটে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে ইউজিসি থেকে আলাদাভাবে অনুমোদন নেয়া যায় কি না সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আজকেই বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে কথা বলে একটি মিটিংয়ের ব্যবস্থা করছি।’
তিনি দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।