২৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩:০৫

ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের জন্য ভিন্ন প্রশ্নপত্র, একাডেমিক কাউন্সিলে বিরোধিতায় অনেকে

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা  © সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত আরও এক ধাপ এগিয়েছে। সাধারণ ভর্তি কমিটি, ডিনস কমিটি এবং অনলাইন ভর্তির কমিটিতে এই বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছানোর পর এবার একাডেমিক কাউন্সিলেও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেখানে বিরোধিতা করেছেন অনেকে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রো-ভিসি, ট্রেজারার ছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং অধ্যাপক পদ মর্যাদার শিক্ষকসহ অন্তত ২০০ জন অংশ নিয়েছেন।

এর আগে গত ২ আগস্ট ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেদিন সাধারণ ভর্তি কমিটির সভার সিদ্ধান্তের সূত্র দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আলাদা প্রশ্নপত্র করার সিদ্ধান্ত হলেও এখনো কোনো নীতিমালা হয়নি বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম রবিবার রাতে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অনেকগুলো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্তটি নিতে হয়। আমরা ইতিমধ্যে বড় দুটি সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজকে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ভিন্ন কারিকুলাম, তাই বৈষম্য দূর করার জন্য এটি করা হচ্ছে। এখানে চেক এন্ড ব্যালেন্স অবশ্যই রাখা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একাডেমিক কাউন্সিলের সভার পর সাধারণ ভর্তি কমিটিতে এটার নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হবে। পরে চলতি মাসের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় চূড়ান্ত করা হবে।

বিরোধিতার কারণ
একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অংশ নেওয়া একাধিক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ এই সভায় আলোচনা নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেননি তারা।

তারা বলছেন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবার জন্য একই প্রশ্ন হওয়া উচিত। নতুবা উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি হবে।

বিজ্ঞান অনুষদের একজন অধ্যাপক বলেন, সভায় অংশ নেওয়া অনেকেই এই সিদ্ধান্ত বিরোধিতা করছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এতে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিরোধিতার ছাড়াও সভায় অনেকেই নোট অব ডিসেন্টও দিয়েছেন। কিন্তু তা সত্তেবও একপেশেভাবে সেটি পাস করিয়েছে।  

সভায় অংশ নেওয়া জীববিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের অনুষদ আলাদা প্রশ্ন করার বিপক্ষে ছিল। এটা নিয়ে সভায় কথা বলেছি আমরা।

একটি ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবার জন্য একই প্রশ্ন হওয়া উচিত। যদি ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাহলে মাদ্রাসা ও কারিগরিদের জন্য কেন হবে না? আবার ইংরেজি মাধ্যমেও বিভিন্ন কারিকুলাম আছে। তাই মনে হয় এ সিদ্ধান্তটি একাডেমিকালি কারেক্ট না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, আগে থেকে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্ন হতো। এটা নতুন কিছু না। ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম টোটালি ভিন্ন। তো তাদের সুযোগ দেওয়ার জন্য এটা করা।