ঢাবিতে ‘সেকেন্ড টাইম’ ভর্তির সুযোগ নিয়ে যা বললেন নতুন উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা (সেকেন্ড টাইম) ফের চালুর দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন একদল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা—প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার মৌসুম আসলে সেটি দেখা যায়। সর্বশেষ গত অক্টোবরে কর্মসূচি ঘোষণা করতে দেখা গেছে।
আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম ফিরিয়ে আনা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় সিদ্ধান্ত। তাই এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব না। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আগে কেন বন্ধ হয়েছিল এর দায়ভার আমরা বর্তমান প্রশাসন নিতে পারব না।
তবে সেকেন্ড টাইম ফের চালু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আমার একক সিদ্ধান্ত না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ডিসিশন এটি। এটা যারা আগে বন্ধ করেছেন নিশ্চয় কোন কারণে করেছেন, সেটা এখন দেখার বিষয়। যখন এই সিদ্ধান্ত হয় তখন আমি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বডি কাজ করে, সেসব বডির সাথে এখন আমি আলাপ করবো। যদি সম্ভব হয় কোনোভাবে ফিরিয়ে আনা যায় কিনা সেটা নিয়ে আমি কথা বলে দেখব। কিন্তু এখনই সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব না। এটি বড় একটা ডিসিশন।
জানা যায়, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার (সেকেন্ড টাইম) ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ বন্ধ রয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিচ্ছুরা তখনও আন্দোলন করেছিল। এছাড়া এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ২৬ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিভাবক আদালতে রিটও করেছিলেন। এরপরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনঢ় রয়েছে।
২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সাধারণ সভা শেষে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছিলেন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় শুধু ওই বছর এইচএসসিতে উত্তীর্ণরা অংশ নিতে পারবে। পুরাতনরা পারবে না।
এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, দুইবার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিলে অসম প্রতিযোগিতা হয়। কারণ দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিলে দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থী এক বছর ধরে ভর্তি পরীক্ষার জন্য পড়ে আর অন্যজন উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেই ভর্তি পরীক্ষায় বসে।
অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন আরও বলেছিলেন, আবার অনেক শিক্ষার্থী প্রথমবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পুনরায় ভর্তি বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। ফলে যেখানে প্রথমবার ভর্তি হয়েছে, সেখানকার আসন ফাঁকা হয়ে যায়।