বাংলা-ইংরেজি-সাধারণ জ্ঞানের জন্য কী পড়বেন, কোন বই পড়বেন?
উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসপটে একটি অদেখা যুদ্ধের বীজ বপন হয়। অদেখা এই যুদ্ধকে স্নায়ুযুদ্ধও বলা চলে। শিক্ষার্থীদের ভেতরে চলতে থাকা এই যুদ্ধের কণ্টকাকীর্ণ পথকে উত রিয়ে যেতে হলে ভিন্ন-ভিন্ন উপায় এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ ও অনুকরণ করেই চলতে হয়। তাহলে গন্তব্যের অমসৃণ পথকে সহজে অতিক্রম করা সম্ভব হয়। কেননা, লাখ-লাখ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত হওয়া ভর্তি যুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি বন্ধুর পথকে আপন করে নিয়েই সামনের দিকে অগ্রগামী হতে হয় নইলে বন্ধুর রাস্তাও হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত দুরতিক্রম্য। এখন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান উপরিউক্ত অদেখা স্নায়ুযুদ্ধে জয় লাভ করতে কী উপায়ে অগ্রসর হওয়া উচিত তা জানা অতীব জরুরি।
"Destination does not make you, rather you make your own destination by your action and priority. Therefore, do not deny to prove your potentiality till you have enough ways of proving of your time and action"
বিশেষেভাবে, এটি প্রতীয়মান যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্ব শেষ হবার পরে একজন শিক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি দিগ্বিদিকশূন্য হয় ভর্তি পরীক্ষার আগের সময়ে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আমাদের দেশের অন্যতম একটি পাবলিক পরীক্ষা। কাজেই, এই সময়ে নানাবিধ মানসিক সংকট ও ত্রুটি প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে; যার ফলে একজন শিক্ষার্থী অত্যন্ত নাজেহাল অবস্থায় পতিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পরবর্তী সময়ে এসে এমন উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে নিজের মনোবল শক্ত রেখে যে কাজগুলো করা যেতে পারে।
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা:
যারা মানবিক ও বিভাগ পরিবর্তন বিভাগ থেকে ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চাই তাদের জন্য কাজটা খুবই সহজ ও সাবলীল। যেমন: মানবিক ও বিভাগ পরিবর্তন বিভাগ থেকে ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে সাধারণত তিনটি বিষয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। ক. বাংলা। খ. ইংরেজি। গ. সাধারণ জ্ঞান।
বাংলা বিষয়ের প্রস্তুতি যেভাবে নেওয়া উচিত:
বাংলা বিষয়কে প্রধানত তিনটি অংশে ভাগ করা যায়। যথা: ক. সাহিত্য অংশ। খ. ব্যাকরণ অংশ। গ. বিরচন বা মুখস্থ অংশ।
ক. বাংলা থেকে সাহিত্য অংশ যেভাবে পড়বে:
উচ্চমাধ্যমিকের বাংলা সাহিত্য নামে যে পাঠ্য বইটি থাকে সেটা থেকে বোর্ড পরীক্ষার জন্য সিলেবাসভুক্ত সব গদ্য ও পদ্য অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পড়ে নিতে হবে। এই গদ্য ও পদ্য পড়বার সময়ে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে— লেখক পরিচিতি, পাঠ পরিচিতি, শব্দার্থ টীকা ও গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলোর উপর। পাশাপাশি, সাহিত্যের সহায়ক পাঠ হিসেবে যে বইটি থাকে ওটা থেকে সিলেবাসভুক্ত নাটক ও উপন্যাসের কাহিনি, চরিত্র, শব্দার্থ টীকা এবং লেখক ও পাঠ পরিচিতি ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে।
খ. ব্যাকরণ অংশ যেভাবে পড়বে:
ভর্তিযুদ্ধে সাহিত্য অংশের পরে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে ব্যাকরণ অংশ থেকে। ব্যাকরণ অংশের জন্য প্রথমেই মাথায় নিতে হবে সব টপিক সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আবার ব্যাকরণের সবটাও পড়বার প্রয়োজন পড়ে না। ব্যাকরণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো হলো।
যথা: ধ্বনি-বর্ণ পরিচয়, ধ্বনি পরিবর্তন, সন্ধি (নিপাতনে সিদ্ধ), উপসর্গ, প্রকৃতি-প্রত্যয়, কারক, সমাস, পদ প্রকরণ (বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়), পুরুষ ও নারীবাচক শব্দ, বচন, বাক্যের শ্রেণিবিভাগ, বাচ্য, শব্দদ্বিত্ব ও ছেদচিহ্ন।
গ. বিরচন বা মুখস্থ অংশ:
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ কম হোক কিংবা বেশি হোক বিরচন অংশ থেকে অবশ্যই প্রশ্ন করে থাকে। এখন বাংলা বিষয়ের বিরচন অংশ সবচেয়ে বেশি বিশদ ও অত্যন্ত বিস্তৃত একটি টপিক। ফলে এই অংশের সবগুলো টপিক সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আবার সবগুলো টপিক থেকে সমানভাবে প্রশ্ন আসে না। কাজেই বাছাই করা সবচেয়ে হাইভোল্টেজ টপিকগুলো অত্যন্ত যত্নসহকারে পড়ে নিলেই প্রশ্ন কমন পাবার নিশ্চয়তা বেড়ে যায়।
বিরচন অংশে যে টপিকগুলো অন্যতম। যথা: এক কথায় প্রকাশ, বাগ্ধারা, শব্দজোড়, সমার্থক ও বিপরীত শব্দ, অভিধানতত্ত্ব, পারিভাষিক শব্দ ও প্রবাদ-প্রবচন। এই টপিকগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো একটি বই থেকে সাজিয়ে-গুছিয়ে পড়ে নিলে নিশ্চয়ই ভালো করার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
বাংলার জন্য রেফারেন্স বই:
ক. একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সাহিত্য পাঠ
খ. নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই
গ. অভিযাত্রী/জয়কলি বা পছন্দ মতো বাজারের যেকোনো বই
ইংরেজি বিষয়ের প্রস্তুতি:
মানবিক ও বিভাগ পরিবর্তনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত হাইভোল্টেজ একটি বিষয় হলো ইংরেজি। কেননা ইংরেজি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে উপরিউক্ত দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। কারণ ইংরেজি বিষয়ের দ্বারা একজন শিক্ষার্থী যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেরিটে স্থান পায়। তেমনি একটি ভালো বিষয়ে ভর্তি হবার দৌড়ে এগিয়ে থাকে। অতএব ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এখন ইংরেজি বিষয়কে বিশ্লেষণ করলে মোটা দাগে চারটি অংশ পাওয়া যায়।
ক. ব্যাকরণ অংশ:
ইংরেজি বিষয়ের এই অংশে ভালো করতে প্রথমেই দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। কেননা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া এই বৃহৎ অংশ থেকে কোন টপিকটি পড়তে হবে আর কোন টপিকটি পড়তে হবে না তা বুঝতে পারা বড্ড মুশকিল হয়ে যায়। ফলে শুরুতেই একটি কর্মপরিকল্পনাকে আঁকড়ে ধরে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। বিশেষত বাজারের প্রচলিত ইংরেজি বই-পুস্তকে মোটামুটি ৩৭টি থেকে ৪০টি মতো টপিক পাওয়া যায়। এখন ভর্তি যুদ্ধে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে প্রচলিত ইংরেজি বই-পুস্তক থেকে এতগুলো টপিক কখনোই পড়তে হয় না। বরং যাচাই-বাছাই করে নিম্নে উল্লিখিত টপিকগুলো পড়লেই যথেষ্ট।
যেমন: Parts of speech, Identification of parts of speech, Interchange of parts of speech, Right forms of Verb, Subject-Verb Agreement, Gerund and Participle, Phrases and Clauses, Subjunctive Verb, Causative verb, Narration, Voice change, Tag question, Transformation of Sentence, Embedded Question, Uses of Modal verb, Sequence of Tense, Pin-point error, Correction.
খ. মুখস্থ অংশ:
ইংরেজি বিষয়ের আরেকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মুখস্থ বিষয়াবলি। এই অংশ শুরু করবার আগে জানা প্রয়োজন কোন টপিকগুলো সবার আগে পড়া উচিত। আর কোন টপিকগুলো বাদ রাখা উচিত।
যেমন: Synonym and Antonym, Appropriate Preposition, Group Verb, Idioms and Phrases, In word a substitution, Translation and Proverb.
মুখস্থ অংশ থেকে এই টপিকগুলো বারবার ও নিয়মিত গুছিয়ে পড়লে নিশ্চিত ভালো করা সম্ভব। এছাড়াও এই টপিলগুলোর জন্য বাজারে প্রচলিত একটি ইংরেজি বই থেকে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো পড়ে নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এই টপিকগুলো পড়বার সময় নিয়মিত লিখে পড়লেও ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
গ. পাঠ্য বই ও সাহিত্য অংশ:
ভর্তিযুদ্ধে কম-বেশি প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন প্যাটার্নে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ে আসা ইংলিশ ফর টুডে বইয়ের বিভিন্ন প্যাসেজ ও কবিতা হুবহু লাইন উঠিয়ে প্রশ্ন করতে দেখা যায়। বিশেষত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইয়ে থাকা গদ্য ও পদ্য অংশে অবহেলা করবার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই পাঠ্য বই থেকে প্রত্যেকটি লেসন ধরে-ধরে খুবই যত্নসহকারে পড়ে নিতে পারলে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব হয়।
পাঠ্য বইয়ের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যা-যা করা যেতে পারে। যথা: ১. প্রথমেই বই ধরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো বাছাই করা। ২. এরপর বাছাই করা অধ্যায় থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ লেসনগুলো সাজিয়ে নিতে হবে। ৩. গুরুত্বপূর্ণ লেসনগুলোর প্রত্যেকটি লাইন ও ব্যাকরণগত সকল আলোচনার খুঁটিনাটি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। ৪. এরপর সেই বিষয়ের উপর একটি স্বচ্ছ নোট প্রস্তুতি করতে হবে। ৫. সবশেষে প্রত্যেকটি অধ্যায়ের অতীব গুরুত্বপূর্ণ লেসনগুলো পড়তে গিয়ে যা-যা অবশ্যই নোট করে গুছিয়ে নিতে হবে। Vocabulary, Appropriate preposition, Group verb, Idiom and Phrases and Literary terms.
সাহিত্য অংশের জন্য যা-যা করা আবশ্যক:
কম-বেশি প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিষয়ের সাহিত্য অংশ থেকেও প্রশ্ন উঠিয়ে থাকেন। তবে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই টপিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করে থাকেন।
এখন উপরিউক্ত টপিকে ভালো করতে যা করণীয় তা তুলে ধরা হলো। যথা: ১. সাহিত্য অংশ থেকে আসা বিগত সালের প্রত্যেকটি প্রশ্ন ও তার ব্যাখ্যা অত্যন্ত যত্নসহকারে পড়ে নিতে হবে। ২. এরপর বাজারে প্রচলিত কোনো একটি ভালো মানের বই থেকে মৌলিক বিষয়গুলো জেনে নিতে হবে। ৩. বিগত সালের প্রশ্ন ও বাজারে থাকা বইয়ের সমন্বয়ে একটি মাল্টিপল নোট তৈরি করে নিতে হবে। এখন সাহিত্য অংশের জন্য যদি কোন শিক্ষার্থী উল্লিখিত কাজগুলো যথাযথভাবে পালন করতে পারে তাহলে এই অংশে নিশ্চিত ভালো করতে পারবে বলে আমার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস হয়।
রেফারেন্স বইসসমূহ:
ক. English For Today
খ. Master/SOS/English Tutor or any other book.
গ. Saifur Student Vocabulary or any other book.
সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি:
ভর্তি যুদ্ধের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত সাধারণ জ্ঞান। তথা ইংরেজির সাথে তাল মিলিয়ে মানবিক ও বিভাগ পরিবর্তনের কোনো শিক্ষার্থী যদি এই অংশে ভালো করতে পারে তাহলে নিশ্চিত চিত্তে ধরে নেওয়া হয় সেই শিক্ষার্থী কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য মনোনীত হবে। ইনশাআল্লাহ! অর্থাৎ ভর্তি যুদ্ধে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হলে সাধারণ জ্ঞানে অবশ্যই ভালো করতে হবে। যদিও সাধারণ জ্ঞানের মতো একটি বৃহৎ বিষয়কে দেখে অনেকেই ভয় পেয়ে দূরে সরে থাকে। তবে সাধারণ জ্ঞান এমন কোন রকেট সাইন্স নয় যে এই অংশে ভয় পেয়ে দূরে থাকতে হবে। বরং, জিকে পার্টে ভালো করতে দুইটি বিষয় থাকা চাই। যথা: ১. বিষয়ভিত্তিক ধারণা। ২. বারংবার পড়বার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।
জিকে পার্টে মোটা দাগে চারটি অংশে ভাগ করা যায়৷ প্রথমত, বাংলাদেশ বিষয়াবলি। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি। তৃতীয়ত, মৌলিক বিষয়াবলি। চতুর্থত, সাম্প্রতিক বিষয়াবলি।
ক. বাংলাদেশ বিষয়াবলির জন্য যা করা যেতে পারে:
বিশেষত, বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশে ১৫টি মতো চ্যাপ্টার আছে। এখন উপরিউক্ত এই চ্যাপ্টারে ৬০-৭০টি টপিক বিদ্যমান রয়েছে। ভর্তি যুদ্ধের অমোঘ সত্য হলো এই ৬০-৭০টি টপিক থেকে সবগুলো টপিক পড়তে হয় না এবং সমানভাবে সবগুলো টপিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং, সূক্ষ্ম দৃষ্টি ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে কিছু টপিক যত্নসহকারে পড়লে বাংলাদেশ অংশ থেকে ভালো একটি নম্বর অর্জন করা সম্ভব হয়।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশে যে টপিকগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো যথা: বাংলাদেশ পরিচিতি এবং ভৌগোলিক নাম ও উপনাম, বাংলাদেশের অবস্থান, আয়তন ও সীমানা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, বাংলার রাজনৈতিক আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জিয়াউর রহমান ও জাতীয় চার নেতা, জাতীয় বিষয়াবলি ও দিবস, বাংলাদেশের সংবিধান, আবহাওয়া ও জলবায়ু, বাংলাদেশের সম্পদ, দর্শনীয় স্থান, স্থাপত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান।
খ. আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অংশে যা করতে হবে:
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অংশেও ১৫টি অধ্যায় ও ৬০-৬৫টি মতো টপিক রয়েছে। জিকে অংশের এই পর্বে ভালো করতে হলে অবশ্যই বিষয়ভিত্তিক ধারণা ও নিয়মিত পড়বার প্রচেষ্টা থাকতে হবে তাহলেই না এই অংশেও যথেষ্ট ভালো নম্বর অর্জন করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির যে অংশ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও অবশ্যই পড়া প্রয়োজন। যথা: ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশ, কতিপয় বিপ্লব ও যুদ্ধ, চুক্তি ও কনভেনশন, গেরিলা, রাজনৈতিক দল ও গোয়েন্দা সংস্থা, বিখ্যাত প্রণালি, দ্বীপ, নদ-নদী, বিশ্বের দীর্ঘতম, ক্ষুদ্রতম বিষয়াবলি, বিশ্বের অর্থনৈতিক জোট, পুরস্কার ও সম্মাননা ও খেলাধুলা।
সাধারণ জ্ঞানের এই অংশে উল্লিখিত টপিকগুলো বাজারের যেকোনো একটি গাইড বইয়ের সহায়তা নিয়ে তা নোট ও বারংবার পড়বার মাধ্যমে ভালো নম্বর অর্জন করা সম্ভব।
গ. মৌলিক ও সাম্প্রতিক বিষয়াবলি:
সাধারণ জ্ঞানের আরও একটি অংশ হলো মৌলিক বিষয়াবলি। সাধারণত, মৌলিক বিষয়াবলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অ্যাকাডেমিক পর্যায়ের কিছু বিষয়। অর্থাৎ, আমরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক বিভাগের যে সব মৌলিক বইসমূহ পড়ে এসেছি সেই বিষয়গুলোর সমন্বয়ে জিকের এই অংশটি সাজানো-গোছানো। যেমন: ভূগোল বিষয় থেকে কিছু মৌলিক প্রশ্ন, পৌরনীতি ও সুশাসনের কিছু মৌলিক প্রশ্ন, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও অন্যান্য বিষয়ের কিছু মৌলিক প্রশ্নের যোগসূত্রে এই বিষয়টি সাজানো আছে।
এখন, জিকের এই অংশে ভালো করবার পূর্বশর্ত হলো জিকের নিমিত্ত বাজারে প্রচলিত যেকোনো বই থেকে মৌলিক বিষয়াবলি থেকে নিম্নে উল্লিখিত টপিকগুলো পড়ে নিলেই এই অংশে সুসংগঠিত প্রস্তুতি হয়ে যায় এবং একটি ভালো নম্বরও অর্জিত হয়। টপিকগুলো হলো। যথা: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সবগুলো টপিক, পৌরনীতি, ভূগোল ও অর্থনীতির সবগুলো টপিক।
সাধারণ জ্ঞানের আরও একটি হেভিওয়েট টপিক হলো সাম্প্রতিক বিষয়াবলি। প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় জিকের প্রশ্নপত্রে সাম্প্রতিক বিষয় থেকে ২/৪টি পর্যন্ত প্রশ্ন সংযুক্তি রাখেন। জিকের এই অংশে ভালো করবার রসদ হলো তিনটি। প্রথমত, ভর্তি যুদ্ধের আগের দুই/তিন মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ে ফেলা। দ্বিতীয়ত, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স থেকে শুরুর জ্ঞানমূলক প্রশ্নসমূহ, অর্থনৈতিক, নোবেল পুরস্কার, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পেজগুলো ভালো করে পড়ে ফেলা। তৃতীয়ত, সংক্ষিপ্ত পরিসরে নোট তৈরি করা। পরিশেষে, যদি কোনো শিক্ষার্থী সাম্প্রতিক অংশে ভালো করবার নিমিত্ত উপরের ধাপগুলো যর্থাথ রূপে অনুসরণ করতে সক্ষম হয় তাহলে নিশ্চয়ই ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে আশা রাখা যায়।
রেফারেন্সভুক্ত বইসমূহ:
ক. জুবায়ের্স জিকে/খন্দকার জিকে/নাঈম জিকে বা বাজারের অন্য যেকোনো বই।
খ. মানবিক বিভাগের মৌলিক বইসমূহ।
গ. মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স।
অতএব, চূড়ান্ত পর্যায়ে এটা বলা বাহুল্য যে ভর্তি যুদ্ধের মতো এত বড় একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় টিকে থাকতে হলে অবশ্যই দৃঢ় মনোভাব, স্বচ্ছ ও গঠনমূলক পড়ালেখা, টপিকভিত্তিক পর্যালোচনামূলক পড়ালেখা, বারংবার রিভিশনভিত্তিক ও জিজ্ঞাসাভিত্তিক পড়ালেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন যদি কোনো শিক্ষার্থী তার প্রস্তুতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উল্লিখিত উপায়ে পড়ালেখাকে চালিয়ে যেতে সক্ষম হয় তাহলে বিজয়ের মালা তার গলায় এসে জড়াবে। ইনশাআল্লাহ।
তাছাড়াও আগামী সময়ে যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করবার নিমিত্ত নিজেদের সর্বাগ্রে প্রস্তুত করতে চায় তাদের জন্য আমার যুগান্তকারী পরামর্শ থাকবে, যথা: আপনি যদি মানবিক ও বিভাগ পরিবর্তনের শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হবার দিন থেকে তিনটি কাজ সর্বদা করবেন। প্রথমত, বাংলা, ইংরেজি ও অন্য মৌলিক বোর্ড বইসমূহ আপন করে নেবেন। দ্বিতীয়ত, বাংলা ও ইংরেজি বোর্ড বই পড়বার সময় নোটভিত্তিক পড়ালেখা করবেন। তৃতীয়ত, যেকোনো বিষয়ের যেকোনো টপিক পড়বার জ্ঞানমূলক ও বিশ্লেষণমূলক উপায়ে পড়বার চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
আপনি যদি শুরুর দিন থেকে তিনটি উপায়ে নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারেন তাহলে আপনার একটি শক্ত ও টেকসই ভিত্তি দাঁড় হয়ে যাবে। পাশাপাশি, অদেখা স্নায়ুযুদ্ধে নিজেকে টিকিয়ে রাখবার দৃঢ় শক্তি অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
Therefore, it says that “a way of chasing your dream is not difficult, but how you will chase your dream is completely difficult. Thus, always invest your time and passion in making up your chasing manner.”
এছাড়াও, অদেখা এই শিহরন জাগানো যুদ্ধে একজন শিক্ষার্থী যদি সফল হতে চাই তাহলে সবকিছুর শুরুতে অবশ্যই তাকে তিনটি কাজের বাধ্যগত হতে হবে। প্রথম কাজ, সময়ের সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পনাভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় কাজ, লক্ষ্য ও হাল ছেড়ে দেবার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসা। তৃতীয় কাজ, সবসময় 'কেন' শব্দ দিয়ে প্রশ্ন করা ও তা জানবার চেষ্টা করা। কেননা, উপরের গুণাবলিগুলো একজন শিক্ষার্থীর মানসপট ও আত্মার দেদীপ্যমান ভাবধারা তৈরি করতে যেমন সক্ষম তেমনি সাফল্যের চিরসবুজ রঙিন পথে পরিচালিত করতেও অবশ্যম্ভাবী কাণ্ডারি।
Thus, it is noted that “you will not lose your hope and aspiration till an objective overview, a well-planned action, a bold determination and the efficiency of these are impartially interrelated with our lives and philosophy.”
সবশেষে, জীবন ও সময়ের দাম অত্যন্ত বেশি এবং উভয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। জীবন থাকতে সময়ের দাম দেওয়া যেমন বুদ্ধিমানের কাজ। তেমনি সময় থাকতে জীবনের দাম দেওয়াও চৌকস ব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ। "Life and time teach us how to realize the fundamental emancipation of our present situation, and how to work on them for us." একইভাবে, অদেখা স্নায়ুযুদ্ধে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে ও সাফ্যল্যের নির্মল ঢেকুর অবগাহন করতে হলেও নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করা শ্রেয়। একবার চেষ্টা করে দেখুন আপনিও পারবেন। আপনাকে দিয়েই হবে। আপনিই প্রাপ্তির স্নিগ্ধ ও মিষ্টি ঢেকুর শান্ত হৃদয় দিয়েই অবগাহন করতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ!
শুভ হোক আপনার পথযাত্রা। শুভ হোক আপনার প্রত্যাহিক দিন। সবার জন্য শুভকামনা।
লেখক:
মো. ইমামুল হোসাইন
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষাবর্ষ: ২০১৯-২০২০
ভর্তি পরীক্ষা মেধাক্রম: ২৪০তম (এ ইউনিট)