২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২২

পড়ালেখায় রুটিন ছিল না— রাত তিনটায় ঘুম ভাঙলেও পড়েছি, আবার ভর দুপুরেও পড়েছি

জান্নাতুল আদন নুসরাত  © টিডিসি সম্পাদিত

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০২৬-২৭ সেশনের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর থেকে। ভর্তি পরীক্ষায় নিজের সাফল্য, প্রস্তুতি এবং ভর্তিচ্ছুদের জন্য পরামর্শ নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের মুখোমুখি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল আদন নুসরাত। তিনি ২০২১-২২ সেশনের চবির কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের (বি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় ১২১তম স্থান অধিকার করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি, তবে ইংরেজি বিভাগে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কেই বেছে নেন তিনি। তার কথাগুলো শুনেছেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল নাঈম।

ভর্তি পরীক্ষায় আপনার সাফল্যের খবর পাওয়ার মুহূর্তটি কেমন ছিল? 

বেশ ভালো লেগেছিল। কারণ আমার ইচ্ছে ছিল ইংরেজি সাহিত্যে পড়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু পছন্দের সাবজেক্ট ইংরেজি পাইনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের সাবজেক্ট পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি ছিলাম৷ 

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কতদিন আগে থেকে শুরু করেছিলেন এবং কীভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন? 

 গুছিয়ে পড়াটা কম হয়েছে বলা যায়। পরিকল্পনা বলে কিছু ছিল না আসলে। মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্টের পর ফ্রেন্ডদের অনেকের চান্স হয়ে যায়।  যখন মনে হয়েছে আমার সার্ভাইভ করতে হবে, এরপর থেকে রাতদিন টানা পড়েছি। আমার দরকার ছিল একটা সিট। ঠিক করেছিলাম ইংলিশে যদি একশটা সিট থাকে, একটা আমার। আবার যদি দশটা সিটও থাকে, একটা যেকোনো মূল্যে আমারই।

 প্রতিদিন গড়ে কত ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন? আপনার পড়ার রুটিনটা কেমন ছিল?

শুরু থেকে বি ইউনিটের জন্য পড়িনি, তাই পরে আমার পড়ার চাপ একটু বেশি ছিল বলা চলে। যখন থেকে সিরিয়াস হয়েছি, বেইসিক কাজকর্ম বাদ দিয়ে পুরোটা সময় পড়েছি। রুটিন ছাড়াই পড়েছি। তিনটায় ঘুম ভাঙলেও তাহাজ্জুদ পড়ে পড়া শুরু করেছি, দুপুরেও পড়েছি। মোটকথা যখন সুযোগ পেয়েছি তখনই।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় কোন বিষয়টি আপনার কাছে সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে? সেটি কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

সাধারণ জ্ঞান (জিকে) কঠিন মনে হয়েছে। এজন্য আমি সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি জিকে অংশে। বারবার পড়তাম, ভুলে যেতাম, আবার পড়তাম, যেন আমি পড়ছি ভুলে যাওয়ার জন্যই।

আপনার প্রস্তুতিতে কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কাজে দিয়েছে? 

 কোচিং করা হয়নি সেভাবে, তবে নিজেকে যাচাই করার জন্য কোচিংয়ের মডেল টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুরুতে ব্যাখ্যাসহ বিসিএস প্রশ্নব্যাংক সলভ করেছি, তারপর প্রিভিয়াস ইউনিভার্সিটি প্রশ্নব্যাংক সলভ করেছি। এতে আমার ভালো আইডিয়া হয়েছিল প্রশ্ন প্যাটার্ন সম্পর্কে। তারপর টপিক ওয়াইজ পড়েছি। আগে থেকে প্রশ্নব্যাংক সলভ করায় বুঝতে পেরেছি কোন টপিক থেকে কেমন প্রশ্ন হয়, কোথায় কেমন জোর দেওয়া উচিত।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে কোন ধরনের অংশে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

আমি গুরুত্ব বেশি দিয়েছি জিকেতে, কারণ পুরোপুরি মুখস্থনির্ভর একটা পার্ট। ইংরেজি আমার জন্য প্লাস পয়েন্ট ছিলো কারণ শব্দভান্ডার এবং গ্রামারে ভালো দখল ছিলো। কিন্তু যখন জিকে পার্টে যেতাম, ডিপ্রেসড হয়ে যেতাম। এই কারণে আমি বেশি বেশি জিকে পড়তাম। রিসেন্ট ঘটনাগুলোর জন্য কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়েছি।

পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা ও প্রশ্ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী ছিল?

প্রথমে পুরো প্রশ্ন পড়ে গেছি৷ এক পলক দেখেই উত্তর করা যায় যেসব, সেসব শেষ করেছি। যা করিনি, পেন্সিলে হালকা ডট দিয়েছি পাশে। তারপর ডট দেওয়া প্রশ্নগুলো আবারও পড়েছি, উত্তর করার চেষ্টা করেছি। যা যা উত্তর করেছি, ইরেজার দিয়ে ডট মুছে দিয়েছি। তৃতীয়বার সময় নিয়ে বাকিগুলো চিন্তা করেছি, উত্তর করেছি।

প্রস্তুতির সময় কখনো হতাশা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল? হলে কীভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছেন?
পুরোটা সময় হতাশ ছিলাম, প্রায়ই কান্নাকাটি করতাম। হতাশা ছিলো বলেই আমি পড়াশোনা করেছি, তাই হতাশা কাজ করাকে নেগেটিভলি দেখি না।

আপনার সাফল্যের পেছনে পরিবার, শিক্ষক বা বন্ধুদের ভূমিকা কতটা ছিল?
 আব্বু-আম্মু রেগুলার দোয়া করতেন। আম্মু কাউকে জোরে সাউন্ড করতে দিতেন না আমার মনোযোগ নষ্ট হবে তাই। শিক্ষকগণের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। আর ওই সময়টাতে বন্ধুদের সাথে খুব বেশি কথা হয়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগকে পছন্দ করার বিশেষ কারণ কী?
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে সাবজেক্টকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। । ঢাবিতে সোশিওলোজি আসে ডি ইউনিট থেকে। ইংরেজি যেহেতু আসেনি ওখানে, চবিতে ইংরেজিতে চলে আসি। বিভাগ পছন্দ করার কারণ ছিল- আমার নভেল, পয়েট্রি, শর্ট স্টোরিজ পড়তে ভালো লাগত। আউটবুক হিসেবে যা ভালো লাগে, তা অ্যাকাডেমিক বুক হিসেবে আরও ভালো লাগবে মনে করেছিলাম।

ভবিষ্যতে যারা ভর্তি পরীক্ষা দিবে তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
একটা বিষয়ের জন্য অনেকগুলো বই না পড়ে যেকোনো একটা বই পুরোপুরি ভালোভাবে শেষ করা এবং রিভাইস দেওয়া। রেগুলারিটি মেন্টেইন করা। একদিন বেশি পড়ে দুইদিন মেন্টালি টায়ার্ড না থেকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রাখতে হবে, ইবাদত করতে হবে। সময় নষ্ট করা যাবে না। লাস্ট ওয়ান, নতুন করে কোনো সম্পর্কে জড়ানোর মতো পরিস্থিতি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। আগে থেকে সম্পর্কে থাকলে মানসিক শান্তির জন্য স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে হবে।