ভুল সিদ্ধান্তে থমকে যেতে পারে ক্যারিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে যেসব সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ
স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখা মানে জীবনের নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ। এই সময়ে অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব, কোন বিষয় পড়ব, ভবিষ্যতে কী করব? শুধু ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেই এই অধ্যায়ের প্রস্তুতি শেষ হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই নিজের আগ্রহ, সামর্থ্য, আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে কিছুটা পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সিদ্ধান্ত শুধু পরবর্তী চার-পাঁচ বছরের পড়াশোনাকে প্রভাবিত করে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং ক্যারিয়ারের অনেকগুলো সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা তাই সবচেয়ে জরুরি।
নিজের পছন্দের বিষয়টি আগে চিনুন
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো নিজের জন্য উপযুক্ত বিষয় খুঁজে বের করা। কোনো বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকলে ভর্তি হওয়ার আগে সেটি নিয়ে পড়াশোনা ও খোঁজখবর করা উচিত।
শুধু বন্ধুরা যে বিষয়ে পড়ছে কিংবা পরিবারের পছন্দ এমন কারণে কোনো বিষয় বেছে নেওয়া ভবিষ্যতে হতাশার কারণ হতে পারে। নিজের আগ্রহ, সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে বিষয়টির মিল আছে কি না, তা বিবেচনা করা দরকার।
একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা বিষয়কে জীবনের একমাত্র সাফল্যের পথ হিসেবে দেখা উচিত নয়। ভর্তি পরীক্ষার ফল একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিযোগিতার ফলাফল; এটি কোনো শিক্ষার্থীর সামগ্রিক সক্ষমতা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়। তাই শুরু থেকেই প্লান এ এর পাশাপাশি প্লান বি এবং প্লান সি রাখা প্রয়োজন। -মো. নোমান আমিন, প্রভাষক, গোবিপ্রবি
একই সঙ্গে ওই বিষয়ের চাকরির ক্ষেত্র, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে কর্মক্ষেত্রের ধরন বদলে যাচ্ছে। তাই আজকের চাকরির বাজারের পাশাপাশি আগামী দিনের সম্ভাবনাও মাথায় রাখা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেখুন বিভাগ ও প্রোগ্রাম
ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে ভালো প্রোগ্রাম সব সময় একই অর্থ বহন করে না। তাই শুধু প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পছন্দের বিষয়টি যে বিভাগে পড়ানো হয়, সেটিও যাচাই করা দরকার।
বিভাগের শিক্ষকদের যোগ্যতা, ল্যাব ও লাইব্রেরির সুবিধা, গবেষণার সুযোগ, ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা এবং অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আগে থেকেই খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের স্বীকৃতি রয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সেটির গ্রহণযোগ্যতা কেমন এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা উচিত।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের সুযোগ-সুবিধা সমান নাও হতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিভাগ ও প্রোগ্রাম নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু ঢাকা নয়, সুযোগ দেখুন অন্য শহরেও
উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকাতেই থাকতে হবে এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসাও প্রয়োজন। রাজধানীর বাইরে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সময়োপযোগী বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। কোথায় পড়বেন, সেটি নির্ধারণের সময় শুধু দূরত্ব নয়, শিক্ষার মান ও সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধাও বিবেচনায় নিতে হবে।
এর সঙ্গে যুক্ত হবে অর্থের বিষয়টি। টিউশন ফি, আবাসন, খাবার, যাতায়াতসহ বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের আনুষঙ্গিক খরচ কত হতে পারে, তা আগে হিসাব করা ভালো। পরিবারের আর্থিক সক্ষমতাও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, নিজের পছন্দের সঙ্গে পরিবারের সামর্থ্যের একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য তৈরি করেই বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা উচিত।
এআইকে ভয় নয়, দক্ষতার অংশ করুন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তি খাতের বিষয় নয়। পড়াশোনা, গবেষণা, তথ্য অনুসন্ধান থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রের নানা কাজেই এআইভিত্তিক টুল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার আগেই এসব টুলের প্রাথমিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। তবে এআইকে নিজের চিন্তা বা শেখার বিকল্প হিসেবে না দেখে সহায়ক দক্ষতা হিসেবে ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ।
পড়াশোনা, তথ্য খোঁজা, গবেষণার কাজে সহায়তা নেওয়া কিংবা উপস্থাপনা তৈরির মতো কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে কাজে লাগতে পারে।
তথ্য পেলেই বিশ্বাস করবেন না
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি কিংবা ক্যারিয়ার নিয়ে তথ্য পাওয়া খুব সহজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সহজলভ্য সব তথ্য নির্ভরযোগ্য নয়।তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর সরাসরি বিশ্বাস না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তা যাচাই করা উচিত।
ভর্তি যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, খরচ, সময়সীমাসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিজে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া নিরাপদ। অন্যের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সময় ব্যবস্থাপনার অভ্যাস এখন থেকেই
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিকতা, বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শেখা ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগলেও অতিরিক্ত ব্যবহারে সময়ের বড় অংশ নষ্ট হতে পারে।
তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই সময় ব্যবস্থাপনার অভ্যাস তৈরি করা ভালো। পড়াশোনা, বিশ্রাম, বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিটির জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করতে পারলে নতুন পরিবেশে নিজেকে সামলানো সহজ হবে।
প্রথম পছন্দ না পেলেও ভবিষ্যৎ থেমে থাকে না
ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় বা পছন্দের বিষয় না পাওয়া অনেকের কাছেই বড় ধাক্কা মনে হতে পারে। কিন্তু একটি পরীক্ষার ফল কিংবা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারা ভবিষ্যতের সব দরজা বন্ধ করে দেয় না। বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় সম্পর্কে আগে থেকেই ভাবনা রাখা তাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে পছন্দের ক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগও থাকতে পারে।
একটি বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খোলা থাকে। জীবনের একটি ভর্তি পরীক্ষা কিংবা একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
সিদ্ধান্তটা হোক নিজের
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁক। তাই শুধু কোথায় ভর্তি হওয়া যাবে, সেটি নয় কোথায় পড়লে নিজের আগ্রহ, সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সবচেয়ে ভালোভাবে এগোনো সম্ভব হবে, সেটি ভাবা দরকার। বিষয় ও বিভাগ যাচাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা, সম্ভাব্য খরচ, ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং নিজের দক্ষতা সবকিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিদ্ধান্তটি যেন শুধু অন্যের পছন্দের ওপর নির্ভর না করে। নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তব তথ্য যাচাই করে পরিকল্পনা করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগের সেই সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের পথ অনেকটা পরিষ্কার করে দিতে পারে।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী বুলবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী সিনেমা বা নাটকে দেখানো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে বাস্তবতা হিসেবে কল্পনা করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অনেকেই স্বপ্ন ও বাস্তবতার পার্থক্য বুঝতে পেরে হতাশ হয়। তাই ভর্তির আগে পছন্দের বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ভালোভাবে জানা জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু নিজের আগ্রহ নয়, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার, চাকরির সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা-খাওয়ার খরচ ও টিউশন বা পার্ট-টাইম কাজের সুযোগও বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।’
বুলবুল হোসেন বলেন, ‘পছন্দের বিষয় বা বিশ্ববিদ্যালয় না পেলে হতাশ না হয়ে আগে থেকেই বিকল্প পরিকল্পনা রাখা প্রয়োজন। নিজের আগ্রহ, সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তীতে হতাশা বা সিদ্ধান্তহীনতায় পড়তে হবে না। পাশাপাশি প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করাও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. নোমান আমিন বলেন, ‘বিষয় বা বিভাগ নির্বাচন শুধু একটি ডিগ্রি বেছে নেওয়া নয়; এটি ভবিষ্যৎ শিক্ষা, দক্ষতা ও পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই কেবল সামাজিক মর্যাদা, অন্যের পরামর্শ বা প্রচলিত জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। শিক্ষার্থীকে প্রথমে নিজের আগ্রহ, সক্ষমতা, শেখার ধরন ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে।’
‘পাশাপাশি নির্বাচিত বিষয়ের পাঠ্যক্রম, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, দেশে-বিদেশে কর্মক্ষেত্র, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং ভবিষ্যতে সেই ক্ষেত্রের সম্ভাব্য পরিবর্তনও বিবেচনা করা দরকার। সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হলো যেখানে শিক্ষার্থীর আগ্রহ, যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত সমন্বয় তৈরি হয়’, যোগ করেন তিনি।
আরও দেখুন : ৭১ থেকে ২৪ সব আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম: রিজভী
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা শুধু ভর্তি হওয়ার বিষয় নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও পেশাগত বিনিয়োগ। টিউশন ফি, আবাসন, যাতায়াত, শিক্ষা উপকরণসহ পুরো শিক্ষাজীবনের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে আগে ধারণা থাকলে শিক্ষার্থী ও পরিবার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করতে পারে এবং মাঝপথে আর্থিক সংকটে পড়ার ঝুঁকি কমে।’
ট্রান্সফারেবল স্কিলস অর্জনের বিষয়ে মো. নোমান আমিন বলেন, ‘কোনো বিষয়ে পড়লেই নির্দিষ্ট একটি চাকরি পাওয়া যাবে এমন ধারণা এখন আর বাস্তবসম্মত নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডেটা প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশন দ্রুত পেশার ধরন পরিবর্তন করছে। অনেক পুরোনো কাজ সংকুচিত হচ্ছে, আবার নতুন ধরনের কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীকে শুধু ডিগ্রির নাম নয়, সেই ডিগ্রির সঙ্গে যুক্ত ট্রান্সফারেবল স্কিলস যেমন বিশ্লেষণী দক্ষতা, যোগাযোগ, ডিজিটাল লিটারেসি, সমস্যা সমাধান, গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি শেখার সক্ষমতা কতটা অর্জন করা যাবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। ভবিষ্যতের কর্মবাজারে টিকে থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হবে পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে দ্রুত অভিযোজিত করার সক্ষমতা।’
বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে মো. নোমান আমিন বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা বিষয়কে জীবনের একমাত্র সাফল্যের পথ হিসেবে দেখা উচিত নয়। ভর্তি পরীক্ষার ফল একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিযোগিতার ফলাফল; এটি কোনো শিক্ষার্থীর সামগ্রিক সক্ষমতা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়। তাই শুরু থেকেই প্লান এ এর পাশাপাশি প্লান বি এবং প্লান সি রাখা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির সময় শিক্ষার্থী দেখতে পারে পছন্দের বিষয়ের কাছাকাছি কোন বিষয় রয়েছে, অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভালো সুযোগ আছে, কিংবা কোন বিভাগ থেকে পরবর্তীতে নিজের কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ার বা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যাওয়া সম্ভব।’
এ শিক্ষকের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের চেয়ে একজন শিক্ষার্থী চার বা পাঁচ বছরে কী জ্ঞান, দক্ষতা, নেটওয়ার্ক ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, সেটিই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ না পাওয়া মানে লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়া নয়; অনেক সময় শুধু লক্ষ্য অর্জনের পথটি পরিবর্তিত হয়। নিজের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির রেখে পথের ক্ষেত্রে নমনীয় হতে পারাই একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।’