সুযোগ চান তিন-চার-পাঁচ বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীরাও, যা বলছে বোর্ড
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এবার প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থীর কেউ এক বিষয়ে আবার কেউ একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে।
অন্যদিকে, তিন বা চার-পাঁচ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরাও এই সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সরকার যেহেতু সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, আমরা যারা একাধিক বিষয়ে ফেল করেছি, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নিলে এক বছর নষ্ট হচ্ছে না। যদিও এসব পরীক্ষার্থীরা সুযোগ পাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সম্পূরক বা বিশেষ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা গেলেও তিন বা ততোধিক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতার বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন; কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে ভালো ফল করেছেন। কিন্তু একাধিক বিষয়ে যারা ফেল করেছেন, তাদের বিষয়টা ভিন্ন। তাই আপাতত তারা সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।’
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া, উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা ও ফল প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। বোর্ডগুলোকে পুরো প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। ফলে সময়সূচি আরও কমিয়ে আনার সুযোগ নেই।
এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করা চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বোর্ডের একাধিক শিক্ষার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঠিক মতো পড়াশোনা করতে পারিনি। এতে আমাদের ফলাফল খারাপ হয়েছে। আমাদের কেউ কেউ তিন, চার-পাঁচ বিষয়ে ফেল করেছেন। সরকার যেহেতু এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিচ্ছে, আমরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেলে একটি বছর নষ্ট হতো না।’
এদিকে গত ৩১ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করে পাসের আরেকটি সুযোগ পায়, সে ব্যবস্থা করা হবে।
জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকেই এ ধরনের উদ্যোগের বিষয়টি আলোচনায় আসলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো মন্ত্রণালয়কে জানায়, এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হলেও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তা বাস্তবসম্মত হবে না।
এবার এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। এক বিষয়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন ফেল করেছেন। ফেল করা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ফেল করেছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন। এর মধ্যে ইংরেজিতে ফেল করেছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। অর্থাৎ এ দুটি বিষয়ই শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
সব বোর্ড মিলিয়ে এবারের পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এই হার প্রায় ৫ শতাংশ কম। গত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার। এর আগে ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭.৭৪ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪০ হাজার শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় অন্তত ২৯ হাজার কম। এ বছর প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮ জনই পাস করতে পারেনি।