৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:২৭

‘হুজুর, ঐ এ প্লাস আপনাদের দিলাম, পানিতে গুলে খান’— নকলের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর

আব্দুল্লাহ  © টিডিসি সম্পাদিত

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। ফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। 

সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার যেখানে ৫২.১২ শতাংশ, সেখানে মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ। এই ব্যবধান দেখে কি মনে হয়, মাদ্রাসাগুলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়েছে? 

আসলে তা নয়। এর পেছনে রয়েছে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অনিয়ম ও দুর্নীতির এক নির্মম চিত্র। যা তুলে ধরেছেন সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ ।

শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ তার ফেইসবুক পোস্টে জানান, আমি কেন এ কথা বলছি এবং এর প্রমাণ কী? আমি এ কথা বলছি আমার নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে। আমি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার  মলুহার ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং সেখান থেকেই দাখিল পাস করেছি। 

যখন আমি পঞ্চম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা দিতে যাই, তখন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মিজানুর রহমান নিজে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের নকল সরবরাহ করেন। 

আমার পাশের একটি ছেলে আমার মতো ‘এ প্লাস’ পায়, যে কিনা নিজের নাম ইংরেজিতে লিখতে গেলেও হিমশিম খায়। 

ঐ শিক্ষার্থী আরো জানান, শিক্ষকদের এভাবে নকল সরবরাহের কারণে শিক্ষার্থীদের মন থেকে পড়াশোনার আগ্রহটাই চিরতরে মুছে যায়। পঞ্চম শ্রেনীর পর শিক্ষকের দেয়া শিক্ষা বাস্তবায়ন করলাম ৫ বছর। আমি আগে থেকেই জানতাম দাখিল পরীক্ষায়ও এভাবে নকল সরবরাহ করা হয়।তাই পাগলামি না করে লেখা পড়া বন্ধ করে দিলাম। প্রয়োজনীয় সময়ে নকল সরবরাহ হলো এবং এ প্লাস পেলাম। পরীক্ষার পর বুঝতে পারলাম কাজগুলো ভূল ছিল আমার ।

যখন আমি আলিম শ্রেণিতে মাদ্রাসায় ভর্তি হতে অস্বীকৃতি জানাই এবং কলেজে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন শুরু হয় তাদের নানা ধরনের  কৌশল। আমি যখন কলেজে ভর্তি হলাম, তখন মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. নুরুল হক এলাকার সবার কাছে বলতে শুরু করেন যে, (মাদ্রাসা বোর্ড থেকে দাখিলে এ প্লাস) এই ফলাফল আমি নিজে অর্জন করিনি, বরং তারা আমাকে পাইয়ে দিয়েছেন এবং ওই ফল পাওয়ার কোনো যোগ্যতাই আমার নেই। আজ আমি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছি, যখন বরিশাল বোর্ড থেকে আমি এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫  অর্জন করেছি।

শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ রাগ ও ক্ষোভ নিয়ে আরো জানান, আমি ঐ এ প্লাস আপনাকে দিয়ে দিলাম হুজুর। পানিতে গুইলা খাবেন রোজ। আমার যোগ্যতা আজ হয়েছে তাই এইচএসসি  যে A+ পেলাম।

আজ আমি পড়ালেখায় যতটুকু দূর্বল তার জন্য দায়ী আপনারা। এমন অনেক ছাত্রকে আপনারা ধ্বংস করেছেন। তিনি নকলের প্রমাণ হিসেবে ফেইসবুক পোস্টে দাখিল পরীক্ষা ২০২৪ এর সরবরাহকৃত নকলের দুটি ছবি সংযুক্ত করে বলেন, এভাবেই দেশের সকল মাদ্রাসায় নকল হয়।আর জেনারেল শিক্ষার্থীরা সারা বছর পড়াশোনা করেও তাদের মত ফলাফল অর্জন করতে পারে না।