ঢাকায় ভর্তি কোচিং করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই রাকিবুল পেলেন জিপিএ-৫
এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে আনন্দের বদলে কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের খাদেমুল ইসলামের পরিবার। মেধাবী সন্তান রাকিবুল ইসলাম পেয়েছেন জিপিএ ৫। কিন্তু এই সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আর কোনো দিন বাড়িতে ফিরবেন না তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসির ফল দেখে রাকিবুল ইসলামের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কথা ছিল, তার মা-বাবার মুখে থাকার কথা ছিল গর্বের হাসি। অথচ জিপিএ ৫ পেয়েও তিনি নেই পরিবারে। কৃষক বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়া ছেলেটি আজ শুধুই স্মৃতি। মিষ্টি বিতরণের স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় থাকা মা-বাবার ঘরে বেদনার অশ্রু।
জানা গেছে, কৃষক বাবা খাদেমুল ইসলামের ছোট ছেলে রাকিবুল ইসলাম। ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একদিন দেশের সেবা করবেন, মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবেন।
পরিবারের ইচ্ছা ছিল, ছেলে ভালো ফল করলে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করার। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত দিন এসেছে এক বুকভরা শোক নিয়ে। যে বাড়িতে আজ আনন্দ উৎসব হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর হারানোর বেদনা। পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
রাকিবুলের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জীবন তার ছোট ভাইয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলের এই সংবাদ পরিবারকে গর্বিত করলেও সেই গর্বের সঙ্গে মিশে আছে অসহনীয় কষ্ট। তিনি বলেন, পরিবারের ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শেষ করে দেশের বড় একজন অফিসার হবে। পরিবারের সব আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এখন তার ফলের দিকে তাকিয়ে কান্না করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাকিবুল ইসলামকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মামুন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবুলকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও তাঁকে আর ফিরে পায়নি। পরে নীলফামারীর ডিমলা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের আগে পরিবারের পক্ষ থেকে কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার কাফরুল থানার উপপরিদর্শক শ্যামল কুমার হালদার জানান, তদন্তে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে গত ৫ অক্টোবর ঢাকার শুক্রাবাদ থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামুন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। সে একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানায়। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও আসেনি।