জিপিএ-৫ কমেছে ক্যাডেট কলেজেও, ১২ কলেজের কোনটির ফল কেমন
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় ১২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
সামগ্রিক ফলাফলের এই নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়েছে ক্যাডেট কলেজগুলোতেও। গত বছর দেশের ১২টি ক্যাডেট কলেজের মধ্যে ১০টির সব পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার সেই সংখ্যা কমে ছয়টিতে নেমে এসেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের ১২টি ক্যাডেট কলেজ থেকে অংশ নেওয়া ৫৭৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে ছয়টি ক্যাডেট কলেজের সব পরীক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়া ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো—বরিশাল, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, মির্জাপুর ও ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ।
বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে এবার ৪৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ জন এবং মানবিক বিভাগের পাঁচজন। সিলেট ক্যাডেট কলেজের ৫০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪৩ জন এবং মানবিক বিভাগের সাতজন রয়েছেন।
রংপুর ক্যাডেট কলেজের ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ জন এবং মানবিক বিভাগের ছয়জন। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাইও জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৩৭ জন এবং মানবিক বিভাগের নয়জন রয়েছেন।
এ ছাড়া ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ জন এবং মানবিক বিভাগের তিনজন। মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ৪১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এ কলেজের সব পরীক্ষার্থীই বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭ জন। এ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের ৪৩ জন এবং মানবিক বিভাগের পাঁচজন পরীক্ষার্থী ছিলেন। বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
পাবনা ক্যাডেট কলেজের ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪৫ জন এবং মানবিক বিভাগের দুজন রয়েছেন। বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৩৮ জন এবং মানবিক বিভাগের তিনজন রয়েছেন। বিজ্ঞান বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৮ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ জন এবং মানবিক বিভাগের চারজন রয়েছেন। বিজ্ঞান বিভাগের চারজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের ২৮ জন এবং মানবিক বিভাগের ছয়জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছেন। অর্থাৎ, এ প্রতিষ্ঠানের নয়জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
অন্যদিকে, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে ৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ জন এবং মানবিক বিভাগের একজন রয়েছেন। বিজ্ঞান বিভাগের ১৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
গত বছর ১২টি ক্যাডেট কলেজ থেকে অংশ নেওয়া ৫৮৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮৭ জনই জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এরমধ্যে ১০টি ক্যাডেট কলেজ থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। শুধু ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ ও জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে ১ জন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।