১৩০ পরীক্ষার্থীর ১০০ জনই ফেল, নেই কোনো জিপিএ-৫, এইচএসসিতে কলেজটির এমন হাল!
বরগুনার এম. বালিয়াতলী ডি. এন. কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ১৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৩০ জন। বাকি ১০০ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েও ফেল করেছেন এবং ৯ জন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। এ কলেজ থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কলেজ থেকে মোট ১৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফরম পূরণ করেন। তাঁদের মধ্যে ১২১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পাস করেছেন ৩০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৯১ জন। বাকি ৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি। সব মিলিয়ে কলেজটির পাসের হার ২৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং অকৃতকার্যের হার ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১২ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৭ জন। এ বিভাগে পাসের হার ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
মানবিক বিভাগে ৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৫৪ জন। এ বিভাগে পাসের হার ২৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৯ জন। এ বিভাগে পাসের হার ১০ শতাংশ।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো: শাহ নেওয়াজ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের কলেজটি মফস্বল এলাকায় অবস্থিত। এখানকার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে না। পাশাপাশি বাসায়ও তাদের পড়াশোনার প্রতি পর্যাপ্ত মনোযোগ নেই। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করে না। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। এসব কারণে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে ফলাফলের উন্নয়নে আমরা আরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব। যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্যের হার বেশি, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। মফস্বল এলাকার কলেজ হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী গ্রামগঞ্জে বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কীভাবে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি শ্রেণিকক্ষমুখী করা যায় এবং ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’