বিদেশের ৮ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ২৩০ জন, জিপিএ-৫ ও পাস কতজন?
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিদেশের আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ১৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৩০ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ২০৯ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশের আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয়জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
কাতারের দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ মাশহুর-উল-হক মেমোরিয়াল হাইস্কুল থেকে ৬২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৬ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন।
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৩৩ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন।
এ ছাড়া সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫১ জনের মধ্যে ৪৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
ওমানের সাহামে অবস্থিত বাংলাদেশ স্কুল থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল থেকে ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
বাহরাইনের বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মানামা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৯ জনের মধ্যে ২৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
লিবিয়ার ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কমিউনিটি স্কুলের দুজন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শতভাগ হলেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
এদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের জেলাগুলোর ফলাফলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। বোর্ডের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে কম পাসের হার ও জিপিএ-৫ পেয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৮৭ জন শিক্ষার্থী।
মানিকগঞ্জে এ বছর ১০ হাজার ২৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ৯১৫ জন। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরীতে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চলে ৮৮ হাজার ১৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬৯ হাজার ৯৯৯ জন। পাসের হার ৭৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৪৮২ জন।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে গাজীপুরে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮৪ জন। নারায়ণগঞ্জে পাসের হার ৬১ দশমিক ৪৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৬১ জন। নরসিংদীতে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯০ জন।
মুন্সীগঞ্জে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯১ জন। মাদারীপুরে পাসের হার ৫০ দশমিক ৬২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৫ জন। ফরিদপুরে পাসের হার ৪১ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ জন।
শরীয়তপুরে পাসের হার ৪১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ জন। রাজবাড়ীতে পাসের হার ৪০ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৪ জন। গোপালগঞ্জে পাসের হার ৪২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৮ জন।
টাঙ্গাইলে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯৪ জন। কিশোরগঞ্জে পাসের হার ৫০ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৯ জন।
সব মিলিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩০ জন। সার্বিক পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ বোর্ডে মোট ১৬ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।