৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৭

এইচএসসির ফল হলো, পাস ও ফেল করা শিক্ষার্থীদের এখন করণীয় কী?

এইচএসসি পরীক্ষার্থী  © ফাইল ছবি

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলাফলে ধস নামায় এবার শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে।

প্রথমত, যারা জিপিএ ৫ পেয়েছেন বা ভালো ফল করেছেন, তারা পড়াশোনার পরবর্তী ধাপ উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবেন। মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য কীভাবে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করবেন। অবশ্য পরীক্ষা দেওয়ার পর থেকেই এই প্রস্তুতি শুরু করবেন।

দ্বিতীয়ত, যারা ফলাফল খারাপ করেছেন বা ফেল করেছেন, তাদের এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতির পাশাপাশি নামতে হবে অন্য লড়াইয়ে। যাদের ফল খারাপ হয়েছে, তারা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করবেন। এখানে ভালো ফলাফল আসার ওপর অনেককিছু নির্ভর করছে।

আর যারা ফেল করেছেন, তাদেরও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী। ফেল করা শিক্ষার্থীরা আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

যারা জিপিএ ৫ পেয়েছেন বা ভালো ফল করেছেন, তারা পড়াশোনার পরবর্তী ধাপ উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবেন। মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য কীভাবে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করবেন। অবশ্য পরীক্ষা দেওয়ার পর থেকেই এই প্রস্তুতি শুরু করবেন।

তাদের পরীক্ষার বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন তারিখ প্রকাশ করা হবে বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে তিনি বলেন, এইচএসসি ও সমমানে ফেল করা শিক্ষার্থীরা নতুন করে ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় বসবেন। আগামী তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষার নতুন তারিখ প্রকাশসহ একটি গাইডলাইন দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘এরপরই ফেল করা যেসব শিক্ষার্থী নতুন করে পরীক্ষায় বসতে চান, তাদের ফরম পূরণ শুরু হবে। প্রকাশিত গাইডলাইনে ফরম পূরণসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকবে।’

সদ্য এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা কোথায় পড়বেন তার একটি লক্ষ্য থাকে। এইচএসসির ফল পাওয়ার পর তাদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ঠিক করা সহজ হয়ে যায়। 

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক। সে কারণে চান্স পাওয়াও বেশ সহজ। তবে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আসন নিজের করে নেওয়া মোটেও সহজ নয়। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে কাঙিক্ষত বিষয়ে ভর্তির জন্য ভালো প্রস্তুতির পাশাপাশি ভাগ্যেরও একটা ব্যাপার আছে।

যারা ফেল করেছেন, তাদেরও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী। ফেল করা শিক্ষার্থীরা আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলছিলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে যে খুব আহামরি প্রস্তুতি ছিল, তা নয়। প্রতিদিন নিয়ম করে কয়েক ঘণ্টা করে প্রস্তুতি নিয়েছি। কোচিংয়ের ক্লাসগুলো নিয়মিত করেছি। তবে কোচিংয়ের পরীক্ষায় শতাধিক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর মধ্যে আমার অবস্থান থাকতো ৫০ এরও পরে।’

ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের তারিখ নির্ধারণ শুরু হয়েছে। দ্রুতই একে একে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এসব তথ্যগুলো নোট রাখতে হবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষার সময়সূচি দেখে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নিয়মে পরীক্ষা হতো, সে নিয়মে নেওয়া কোচিংয়ের ওই পরীক্ষায় এভাবে পিছিয়ে থাকা মানে চান্স না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি- আমার মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল। তবে আমার সে বিশ্বাস বদলে দিয়েছিলেন কয়েকজন শিক্ষক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত কয়েকজন বড় ভাই। তারা আমাকে বলেছিলেন, ভর্তি পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার জন্য ভালো প্রস্তুতি জরুরি।’

‘তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা আমাকে বলেছিলেন, সেটি থাকলেই প্রস্তুতিতে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। তা হলো, ‘আত্মবিশ্বাস’। এটিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বড় ভূমিকা রেখেছিল আমার ক্ষেত্রে’ যোগ করেন তিনি।

জানা গেছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের তারিখ নির্ধারণ শুরু করবে। এরপর একে একে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এসব তথ্যগুলো নোট রাখতে হবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষার সময়সূচি দেখে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, অনেকে কোচিং কিংবা মডেল টেস্ট পরীক্ষায় ভালো ফল করতে না পারলে আশাহত হন। তারা ভাবেন, তার আর চান্স পাওয়া হবে না। তবে বাস্তবতা হলো- কোচিংয়ের পরীক্ষায় সাধারণত একটু জটিল বা কঠিন টাইপের প্রশ্ন করা হয়। ফলে নম্বর তোলাও কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কোচিং বা মডেল টেস্টের মতো নয়। 

আরও খবর: ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ শুরু কবে, জানা গেল

তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয় সবদিক বিবেচনায় নিয়ে। ফলে অতটা জটিল হয় না, প্রশ্ন করা হয় মানসম্মত। সে হিসেবে প্রশ্ন থাকে সহজ, কিন্তু কৌশলী (ট্রিকি)। সে কারণে কোচিং বা মডেল টেস্টের প্রশ্নে হতাশ না হয়ে ভালোভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া জরুরি। পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে বসে অনেকে ঘাবড়ে যান। কি প্রশ্ন আসবে? কেমন পরীক্ষা নেবে তারা? আমি চান্স পাব তো? এমন নানা ধরনের প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায় তাদের। 

পরীক্ষার আগে এ ধরনের চিন্তা বাদ দেওয়ার বিষয়ে মত সাবেক শিক্ষার্থীদের। তারা বলছেন, ভর্তি পরীক্ষায় সময় আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। ‘যে প্রশ্নই আসুক, আমি পারব’, এমন মনোভাব রাখতে হবে সবাইকে। বিশ্ববিদ্যালয় তো একটি নয়। অনেকগুলো ভালো বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। একটিতে না হলে আরেকটিতে হবে। ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। এভাবে যদি মনমানসিকতা পরীক্ষার আগে স্বাভাবিক রাখা যায়, তাহলে সাফল্য ধরা দিতে বাধ্য। এতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ শুরু হবে আর এক-দু’মাস পরেই। এখন প্রতিটি দিন, প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতিটা এখন ভালোভাবে নিলে আর আত্মবিশ্বাস রাখলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। এমন মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা বেড়েছে সত্য। তবে অনেক বিষয় আগের চেয়ে সহজও হয়ে গেছে। সেভাবে প্রস্তুতি নিলে সাফল্য আসবে।

এবার এইচএসসি বা সমমানের মোট পরীক্ষার্থী ছিল সাড়ে ১৪ লাখের মতো। মঙ্গলবার ১১টায় স্ব স্ব বোর্ড ফল প্রকাশ করবে। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা সাংবাদিকদের কাছে ফলাফলের পরিসংখ্যান বিতরণ করবেন। শিক্ষাবোর্ডসমূহের ওয়েবসাইট হতে এবং এসএমএস এর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা সকাল ১১টায় ফলাফল জানতে পারবে।