ভোলা সরকারি কলেজে দুই বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ৭১ শতাংশ
ভোলা সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও ধারাবাহিকভাবে কমছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ২০২৪ সালে কলেজটি থেকে ১২৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫ জনে। দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ অর্জনকারীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ।
কলেজটির ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভোলা সরকারি কলেজ থেকে ৫৬৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পান ১০০ জন। ২০২৪ সালে ৫৩৯ জন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করেন ১২৩ জন। তবে পরের বছর থেকেই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করে। ২০২৫ সালে ৬৬৩ জন উত্তীর্ণ হলেও জিপিএ-৫ পান ৫৩ জন। সর্বশেষ ২০২৬ সালে ৬৪০ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩৫ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে কলেজটির উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০১ জন বেড়েছে। বিপরীতে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৮৮ জন। অর্থাৎ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জনকারীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ।
শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক পাসের সংখ্যার সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জনের এই ব্যবধান শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভর্তির সময় ভালো ফলাফল নিয়ে কলেজে আসা শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারছেন কি না, তা নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি ও ফলাফল পর্যালোচনার পাশাপাশি নিয়মিত একাডেমিক তদারকির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাঁদের মতে, শুধু উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো নয়, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ভোলা সরকারি কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে পাঠদানের মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নিবিড় পরিচর্যায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।