৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১২

‘টিকটক কলেজ’ থেকে পাস করলেন ২ শিক্ষার্থী

‘টিকটক কলেজ’  © সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘টিকটক কলেজ’ নামে সমালোচিত মাদারীপুর সদর উপজেলার মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। চলতি বছরের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র দুজন। বাকি ১১ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। সে হিসাবে কলেজটির পাসের হার মাত্র ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকসংকট, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং সার্বিক একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং বিষয়ভিত্তিক পাঠদানে ঘাটতির কারণে তারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সমস্যায় পড়েছেন। অন্যদিকে, কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, বেতন পরিশোধে অনিয়ম ও ক্লাস বণ্টনে জটিলতার কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মন্তব্যে কলেজটিকে ‘টিকটক কলেজ’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। তবে ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে তিনটি বিভাগ নিয়ে মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখা অনুমোদন পায়। তবে কলেজ শাখা চালুর পর থেকেই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আগের দুই বছরের ফলাফলও সন্তোষজনক ছিল না। চলতি বছরের ফলাফল সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফলের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, শিক্ষকদের পাঠদান, শিক্ষকসংকট এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ঠিকমতো আইসিটি ক্লাস হয়নি। ক্লাসের জন্য প্রতিনিধিকে শিক্ষকদের ডাকতে হতো। একজন স্যার আরেকজন স্যারকে পাঠানোর চেষ্টা করতেন। প্রধান শিক্ষককে বারবার বলার পরও বিষয়টি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ দেখিনি। বিনা মূল্যে ভর্তির কথা বলা হলেও পরে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।”

এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং শিক্ষকসংকট রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ নিয়েও সমস্যা থাকায় কোনো কোনো শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিতে আসেন না। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ।

প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক। সময়মতো বেতন দেওয়া হয় না। কোন শিক্ষক কোন বিষয়ের ক্লাস নেবেন, তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয় না। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেও ক্লাস দেওয়া হয়।

এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, “হিসাববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা একজন শিক্ষককে ইংরেজি ক্লাস দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ স্থানীয় প্রভাবের কথা তুলে ধরেন বলে আমাদের অভিযোগ। এ কারণে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না। আমরা যেভাবে পাঠদান করতে চাই, সেভাবেও সব সময় সুযোগ পাই না।”

ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। ‘মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’ নামের একটি পেজে ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ব্যবহারকারী কলেজটির ফলাফল ও পাঠদান নিয়ে মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমরা দেখেছি এবং শুনেছি। মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ফলাফল একেবারেই খারাপ হয়েছে। কী কারণে এমন ফলাফল হয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখব।”