৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২২

সোহরাওয়ার্দী কলেজে এইচএসসির ফলাফলে ভরাডুবি, ফেল ৭২৪

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা  © টিডিসি ফটো

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। এ বছর কলেজটির পাসের হার ৬৩.৪৫ শতাংশ। মোট ১ হাজার ৯৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ২১৫ জন। পাস করতে পারেনি ৭২৪ জন। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, কলেজটিতে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ হাজার ৯৩৯ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৯১৫ জন। পাস করেছেন ১ হাজার ২১৫ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে পাশের হার ৬৩.৪৫ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন। 

বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ বিভাগে পাস করেছেন ৫৫৬ জন এবং ফেল করেছেন ৩৫৪ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী।

মানবিক বিভাগে পাস করেছেন ৩৯৬ জন।অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৪ জন। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন শিক্ষার্থী। 

অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগে পাস করেছেন ২৬৩ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১২৬ জন শিক্ষার্থী। এ বিভাগ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পান নি।

গত কয়েক বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় কলেজটির পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমতে দেখা যায়। ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির পাসের হার ছিল ৮০.০৯ শতাংশ। ওই বছর ২ হাজার ১২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ হাজার ৭০২ জন।

২০২৫ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৬৭.৭২ শতাংশে। সে বছর ২ হাজার ২৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ১ হাজার ৩৭৪ জন। চলতি বছর পাসের হার আরও কমে হয়েছে ৬৩.৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৬.৬৪ শতাংশ পয়েন্ট।

চলতি বছরের ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ১ হাজার ২১৫ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন। অন্যদিকে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৭২৪ জন পাস করতে পারেনি, যা কলেজটির ফলাফলে বড় একটি অংশ।

এ বিষয়ে রহিমা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ঐতিহ্যবাহী এমন একটি কলেজে ১৯৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ১২১৫ জন এবং জিপিএ-৫ কিভাবে মাত্র ৩ জন পাই এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। যেখানে ঢাকা কলেজ থেকে ১১৩৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ১১২৯ জন এবং জিপিএ-৫ পায় ৬৮৮ জন, সেখানে সোহরাওয়ার্দীতে মাত্র ৩ জন! ঢাকা কলেজের শিক্ষকরাও বিসিএস ক্যাডার, এখান কার শিক্ষকরাও বিসিএস ক্যাডার। তারও যে সুযোগ -সুবিধা পায় এখান কার শিক্ষকরাও একই সুযোগ -সুবিধা পায়। তাহলে কলেজ প্রশাসন কি করে? এখানে লেখাপড়ার মান দিন দিন তাহলে কি  হারিয়ে যাচ্ছে? 

এই বিষয়ে পাসকৃত এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজ কতৃপক্ষের গাফিলতিই হলো প্রধান কারন। ছাত্রছাত্রীরা কলেজের নাম করে বাইরে আড্ডা দেয়, সিগারেট খাই, মেয়েদের নিয়ে ঘোরাঘুরি সহ আরো কত কি। কিন্তু এই বিষয়ে প্রশাসনের কোনো নজরদারিই নেই । অথচ অন্যান্য সরকারি  কলেজে ১ দিনের পরে ২ দিন অনুপস্থিত থাকলেই বিষয়টা অভিভাবককে জানানো হয়। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। যারা ভালো রেজাল্ট করছে তারা একান্ত নিজের চেষ্টায় করছে।

অন্যদিকে রেজাল্টের বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজের অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সোহরাওয়ার্দী কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই এতে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হবেন। আমিও বিষয়টি নিয়ে হতাশ। কী কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে, তা নিয়ে আমরা বসে পর্যবেক্ষণ করব এবং ফলাফল ও এ-সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ঘাটতি না থাকলে এমন ফলাফল হওয়ার কথা নয়। গত বছর প্রাইভেট শিক্ষার্থীরা এসে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাই রেজাল্ট খারাপ হয়েছিলো। তবে এ বছর, আমার জানা মতে, তা বন্ধ ছিল। 

উল্লেখ্য, সকালে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ।