যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১৬ প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল, ৩টিতে শতভাগ পাস
২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওয়াতাধীন ১৬টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। শতভাগ পাসের তালিকায় রয়েছে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী স্বাক্ষরিত ফলাফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি ও পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত ফলাফলের তথ্যানুযায়ী, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, কুষ্টিয়া মিরপুরের হাজী নুরুল ইসলাম কলেজ- বুড়াপাড়া, কুমারখালির জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ, মেহেরপুরের গাংনির মরকা জাগরণ কলেজ, ঝিনাইদহ সদরের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরী কলেজ, খুলনার ডুমুরিয়ার মডেল মহিলা কলেজ, সদরের ইনডিপেনডেন্স আইডিয়াল কলেজ, পাইকগাছার কপিলমনি শাহাছড়ি বিদ্যা মন্দির, কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজ, রূপসার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মাইলস স্কুল এন্ড কলেজ, মাগুরা সদরের বাজরুক শ্রিকুন্ডি কলেজ, মোহাম্মদপুরের গোপিনাথপুর এম. এ খালেজ স্কুল এন্ড কলেজ, যশোরের মণিরামপুরের সবুজ পল্লী কলেজ, সাতক্ষীরা সদরের ইসলামীয়া মহিলা কলেজ, এ. কে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ ও নড়াইল লোহাগড়ার মাকরাইল করিমখালেক সোলাইমান ইনস্টিটিটিউট।
শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, নেভী আঁচোরাগে স্কুল অ্যান্ড কলেজ খুলনা এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মেডল স্কুল এন্ড কলেজ।
এই বোর্ডে গড় পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী, যা গত চার বছরের তুলনায় সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা উভয়ই কমেছে।
বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ১০টি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৪০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী। অসুদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী।
বিগত চার বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৬৯.৮৮ শতাংশ (জিপিএ-৫ পায় ৮ হাজার ১২২ জন), ২০২৪ সালে ৬৪.২৯ শতাংশ (জিপিএ-৫ ৯ হাজার ৭৪৯ জন) এবং ২০২৫ সালে ছিল ৫০.২০ শতাংশ (জিপিএ-৫ পায় ৫ হাজার ৯৯৫ জন)। সেই তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমে ৪৪.৯২ শতাংশে এবং জিপিএ-৫ কমে ৩ হাজার ২২৮ জনে নেমে এসেছে।
শূন্য পাসের বিষয়ে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে শিক্ষা বোর্ড। শূন্য পাস করা ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক দুর্বলতা কিংবা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানা তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে ফলাফল প্রকাশের পরের দিন থেকে সাত দিনের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ১ নভেম্বর হতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে পারবে।