যশোর বোর্ডে ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এবার
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে গত এক দশকের মধ্যে এবার সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছে। চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় বোর্ডটিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশে। গত বছরও পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
বোর্ডটির গত ১০ বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ২০১৭ সালে যশোর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ০২ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশে। পরের বছর, ২০১৯ সালে পাসের হার বেড়ে হয় ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়নের ভিত্তিতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ২০২১ সালেও পাসের হার ছিল ৯৮ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে ২০২২ সাল থেকে বোর্ডটিতে পাসের হার কমতে শুরু করে। ওই বছর ৮৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। ২০২৩ সালে এ হার আরও কমে দাঁড়ায় ৬৯ দশমিক ৮৮ শতাংশে।
২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত বছর তা কমে হয় ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। এবার পাসের হার আরও কমে নেমেছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশে। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৩ সালে যশোর বোর্ডে ৮ হাজার ১২২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৭৪৯ জনে।
তবে ২০২৫ সালে তা কমে হয় ৫ হাজার ৯৯৫ জন। চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ৭৬৭ জন। শতকরা হিসাবে কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন।