৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৪

জিপিএ-৫ এ বড় ধস, ১১৯ থেকে এক লাফে নেমে ৪১

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ  © টিডিসি ফটো

সারাদেশের ন্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের ফলাফলে জেলা শহরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫। জেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উত্তরোত্তর উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে ফলাফল তার বিপরীত চিত্র বহন করছে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছরের ফলাফলে কলেজটি আশানুরূপ কোনো স্বাক্ষর রাখতে পারেনি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে মোট ৬৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৭৯ জন। এতে কলেজে মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৩.৯১ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪১ জন শিক্ষার্থী।

বিগত ২০২৫ সালের ফলাফলের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, সে বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৫৪৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫০৩ জন পাস করেছিল। পাসের হার ছিল ৯২.৬৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছর সারাদেশে দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার প্রায় ৫৮ শতাংশ থাকা সত্ত্বেও এই কলেজ থেকে ১১৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। কিন্তু এ বছর জাতীয় পাসের হারের তুলনায় ফলাফল খুব একটা কম না হলেও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসে ঠেকেছে মাত্র ৪১ জনে।

ফলাফলের এই নিম্নমুখী ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রামের সচেতন মহল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষাবিদ জানান ‘সারাদেশের ফলাফল বিবেচনায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ফল আপাতদৃষ্টিতে ভালো মনে হলেও নটর ডেম বা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের মতো মানদণ্ড চিন্তা করলে ঘাটতি স্পষ্ট। বিগত দিনে কলেজ প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল শতভাগ পাসের হার নিশ্চিত করা। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা চরম খামখেয়ালিপনা লক্ষ্য করেছি। বিশেষ করে কলেজ প্রশাসনের যথাযথ সিদ্ধান্তগুলোতে অভিভাবকদের অসামঞ্জস্যতা ও সম্মতির অভাব ছিল, যা সার্বিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’ এ সময় তিনি কলেজ প্রশাসনকে আরও সতর্ক হয়ে অভিভাবক সমন্বয়ের মাধ্যমে মানোন্নয়নের পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে, ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের বর্তমান উপাধ্যক্ষ ড. সাইফুর রহমান সরকার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের এ বছরের ঘাটতির সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ না করে শিক্ষাবোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলের দোহাই দেন। তিনি দাবি করেন, ‘বোর্ডের সার্বিক ফলাফলের তুলনায় আমাদের কলেজের ফল ভালো হয়েছে।’

নামিদামি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের উদাহরণ টেনে আনা হলে তিনি বলেন, ‘নটরডেম বা নামি ক্যান্টনমেন্ট কলেজগুলোতে শুরুতেই মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পায়। সে তুলনায় আমরা সেরকম শিক্ষার্থী পাই না। তবে অভিভাবকরা আমাদের সহযোগিতা করলে আগামীতে আরও ভালো ফলাফল উপহার দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।’

জেলার শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলে অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত একাডেমিক মান তদারকি এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

যদিও এই রেজাল্ট নিয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ সর্বোচ্চ অবস্থানেই আছে।