৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫

এসএসসিতে শতভাগ এ+ পাওয়া কাদের মোল্লা কলেজের এইচএসসির জিপিএ-৫ এ ধস

নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ  © সংগৃহীত

এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার সাফল্যের পর এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন দেখেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১ হাজার ১৮১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬১ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৬২০ জন। তবে পাসের হারে নিজেদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার কলেজটির পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ থেকে এবার মোট ১ হাজার ৫৫২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৫৫১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬১ জন। বাকি একজন অকৃতকার্য হয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৬০ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৯৪ জন। এ বিভাগে তিনজন অকৃতকার্য হয়েছেন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পাস করেছেন ১৮০ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ জন। অন্যদিকে মানবিক বিভাগ থেকে ৩১১ জন পাস করেছেন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে পাসের হার শতভাগ।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সোয়াইব হোসেন বলেন, ‘আমি কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে রেখেছেন, তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই।’

কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ২০১২ সাল থেকে টানা তিন বছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। ২০১৫ সাল থেকে শিক্ষা বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে সেরাদের তালিকা প্রকাশ বন্ধ করলেও প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালে প্রথম ফলাফলে কলেজটির পাসের হার ছিল ৯৯ শতাংশ। ২০০৯ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম এবং সারা দেশে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে। ২০১০ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ এবং ২০১১ সালে সপ্তম স্থান অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ঢাকা বোর্ড তথা সারা দেশে শতভাগ পাসসহ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নিজেদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে সার্বিকভাবে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলেও বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬৯ হাজার ৯৭ জনে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। আর দুই বছরের ব্যবধানে কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮২৭ জন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সার্বিক ফলাফলের তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চলতি বছরের ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

উল্লেখ্য, গত বছর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৯৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ১৮১ জন। সে হিসাবে গত বছর প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ছিল প্রায় ৮৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এবার সেই সংখ্যা কমে ৫৬১ জনে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের ৩৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।