৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫

যশোর বোর্ডে এইচএসসি-র ফলাফলে বিপর্যয়

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর  © সংগৃহীত

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (এইচএসসি) যশোর শিক্ষা বোর্ডে এবছর পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। এ বোর্ডে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটিই কমেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ১০ জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২৪০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীকে।

পাসের হার ও জিপিএ-৫-এ ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এ বছর ৫৪ হাজার ৮১১ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২১ হাজার ৫০২ জন। তাদের পাসের হার ৩৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে ৫৭ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ২৯ হাজার ১৬৬ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ৩০ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া ৩ হাজার ২২৮ জনের মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৮৭০ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৩৫৮ জন।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে ২১ হাজার ৬৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৫৮ জন; তাদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৭ জন এবং ছাত্রী ৮৪১ জন। মানবিক বিভাগে ৭৯ হাজার ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩০ হাজার ১৯১ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ২৬৮ জন এবং ছাত্রী ৮৯৭ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫ হাজার ৩১০ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন; ছাত্র ৭৩ জন এবং ছাত্রী ১৩২ জন।

জেলাভিত্তিক ফলাফলে যশোরে পাসের হার সবচেয়ে বেশি, ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এরপর রয়েছে খুলনা ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ, চুয়াডাঙ্গা ৪৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, কুষ্টিয়া ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, সাতক্ষীরা ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ঝিনাইদহ ৪১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মেহেরপুর ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, বাগেরহাট ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং মাগুরা ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাসের হার নড়াইলে, ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

উল্লেখ্য, বোর্ডের গত ১০ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ০২ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশে। তবে ২০১৯ সালে পাসের হার বেড়ে হয় ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে। ২০২১ সালেও পাসের হার ছিল ৯৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

এরপর ২০২২ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৮৩ দশমিক ৯৫ শতাংশে। ২০২৩ সালে তা আরও কমে হয় ৬৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত বছর ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৫০ দশমিক ২০ শতাংশে। সর্বশেষ ২০২৬ সালে পাসের হার আরও কমে হয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালে যশোর বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ হাজার ১২২ জন শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৯ হাজার ৭৪৯ জন। তবে ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৯৫ জনে। চলতি বছর তা আরও কমে হয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন।