২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৩

এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন ১৫০০ টাকায় বিক্রি

এসএসির টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন ১৫০০ টাকায় বিক্রি, পরীক্ষা স্থগিত  © এআই সম্পাদিত

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্নপত্র ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) নির্ধারিত বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

একই সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নপত্রও বাতিল করে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লুৎফুন নাহার।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে বিদ্যালয়জুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের আগের পরীক্ষা কমিটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার পাশাপাশি নতুন পরীক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

প্রথম দফায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নতুন করে প্রশ্নপত্র তৈরি করে। পরে সেই প্রশ্নপত্র ফটোকপি করার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত জনি ফটোস্ট্যাটে পাঠানো হলে দ্বিতীয় দফায়ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২০২৭ সালের এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে।

প্রশ্ন পত্রটি ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটি জানার পর জনি ফটোকপি দোকানে অভিযান চালান সহকারী কমিশনার মির্জা শহিদুল ইসলাম। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুরো ঘটনা, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে গেল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আজ সোমবার সকালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর নির্ধারিত বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের তদারকির ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘটনায় আগের পরীক্ষা কমিটির সদস্যদের শোকজ এবং নতুন পরীক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এ ঘটনার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই এ ধরনের অনিয়মকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) নতুন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর অন্য বিষয়গুলোর প্রশ্নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। সেসব বিষয়ের পরীক্ষা নতুন প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বলেন, গত রাতে ২০২৭ সালের এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে। এ কারণে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষাটি আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা জানতে প্রশাসন কাজ করছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কোনো শিক্ষক জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন, অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নপত্র বাতিল এবং তদন্ত কমিটি গঠনের ঘটনায় বিদ্যালয়টির পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা উঠে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।