১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০

রাজশাহী বোর্ডে এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণে ফেল থেকে পাস ১১১ পরীক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পেল ৭৭

ফল প্রকাশের পর উল্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা   © সংগৃহীত

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছেন ১১১ পরীক্ষার্থী। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন আরও ৭৭ জন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। আর ৫৫ হাজার ২৫৯টি স্ক্রিপ্টে নম্বর পরিবর্তন হয়েছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৬২ জন পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন। মোট ৯৮ হাজার ৭১০টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। পুনর্নিরীক্ষণের পর রাজশাহী বোর্ডে ৬৩১ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ১ হাজার ৪০০ জনের। এতে ১১১ জন পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭ জন।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৪ জন। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন। মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৮ হাজার ৯৯৯ জনের গ্রেড এবং ২১ হাজার ৬৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ৩৩৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯০৬ জন।

কুমিল্লা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯২৯ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৯১ হাজার ৪৯৪টি স্ক্রিপ্ট দেখা হয়। এতে ২ হাজার ১৫৫ জনের গ্রেড এবং ৪ হাজার ৭০ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে ৩৩৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০৭ জন।

যশোর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬২ জন আবেদন করেন। পুনর্নিরীক্ষণ করা হয় ৭৪ হাজার ৭১৭টি স্ক্রিপ্ট। এতে ১ হাজার ৬৮৪ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ৭৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ৩৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮২ জন।

চট্টগ্রাম বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৯৭৫ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে ১৯০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৩ জন।

বরিশাল বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮০ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ২৮৩ জন আবেদন করেন। পুনর্নিরীক্ষণ করা হয় ৫০ হাজার ২৯৩টি স্ক্রিপ্ট। এতে ১ হাজার ৫ জনের গ্রেড এবং ৩ হাজার ১১৮ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। ৭৯ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১২ জন।

সিলেট বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮৯ হাজার ৭৯ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৭৮৩ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৫০ হাজার ৭১৩টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ২৮৬ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৫৮৭ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ১৮৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১২১ জন।

দিনাজপুর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯৬ জন আবেদন করেন। পুনর্নিরীক্ষণ করা হয় ৮৯ হাজার ২৮৬টি খাতা। এতে ৩ হাজার ৩৫৪ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৬৩৬ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন করে ৮৬৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৭৫ জন।

ময়মনসিংহ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৭১ হাজার ৬৬টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৫ হাজার ৩২১ জনের গ্রেড এবং ৬ হাজার ৫০৮ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭৭ জন।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে ৪০ হাজার ১২০ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ৫৪৯ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৯৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন করে ২৫৫ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। আর ২৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৩০৭ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৩৪ হাজার ৩০৫টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৬৬৭ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ১৭২ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ৬৬৪ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন।

সার্বিক হিসাবে, দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬২৫ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৫০টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ২৫ হাজার ৬২০ জনের গ্রেড এবং ৪৯ হাজার ১৪০টি স্ক্রিপ্টের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে।

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ৩ হাজার ৬৬৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৮০ জন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৮টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়।

পুনর্নিরীক্ষণের পর সারাদেশে মোট ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৫ হাজার ২৫৯টি স্ক্রিপ্টে। সব মিলিয়ে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন।