দারুন্নাজাতের ঈর্ষণীয় সাফল্য, প্রত্যাশিত ফল আসেনি তা’মীরুল মিল্লাতের
২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেশের শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। একদিকে দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে। অন্যদিকে দেশের অন্যতম পরিচিত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার টঙ্গী ক্যাম্পাসে প্রত্যাশিত ফল না আসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার টঙ্গী ক্যাম্পাস থেকে এ বছর ৭৭২ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২১ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া ৪২ জন শিক্ষার্থী বি ও সি গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে।
অন্যদিকে, দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ অর্জনের হার প্রায় ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ফলে পাসের হারে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি না হলেও জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে দারুন্নাজাতের সঙ্গে তা’মীরুল মিল্লাতের বড় ব্যবধান রয়েছে।
ফলাফলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো জিপিএ-৫ অর্জনের হার। দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসায় মোট শিক্ষার্থীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জিপিএ-৫ পেলেও তা’মীরুল মিল্লাতে এ হার ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ দুই প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ অর্জনের হারে প্রায় ৪১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান রয়েছে।
পাসের হার প্রায় ৯৭ শতাংশের ওপরে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনের তুলনামূলক কম হার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ফলাফল মূল্যায়নে শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ-৫, বিভিন্ন গ্রেডে শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং অকৃতকার্যের সংখ্যাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ফল প্রকাশের পর তা’মীরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় অনেক অভিভাবক হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দেশের অন্যতম শীর্ষ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তা’মীরুল মিল্লাতের ফলাফল আরও প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত।
অভিভাবকদের কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পদ্ধতি, নিয়মিত মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষও এবারের ফলাফলে কিছুটা ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলাফল কিছুটা কম হয়েছে। তবে এটিকে স্থায়ী চিত্র হিসেবে না দেখে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে আগামী বছরগুলোতে ফলাফল আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সার্বিক ফলাফলে প্রত্যাশার ঘাটতি থাকলেও ব্যক্তিগত সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তা’মীরুল মিল্লাতের কৃতকার্য শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। তারা নিজেদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের সহযোগিতা, নিয়মিত পাঠদান এবং নিজেদের অধ্যবসায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে চায় তারা।