১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১১

এসএসসির ফল চলতি মাসের শেষে, এইচএসসির ‘পুনঃপরীক্ষা’ নিয়ে কী বলছে বোর্ড

এইচএসসি পরীক্ষার্থী  © টিডিসি ফটো

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই প্রকাশের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও এইচএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে নানা জটিলতার কারণে ফল প্রকাশে কয়েক দিন দেরি হচ্ছে। তবে চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এছাড়াও এইচএসসির ৩ বিষয়ের পুনঃপরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে নেবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। 

শনিবার (১৮ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘২০ জুলাই ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। এইচএসসি নিয়ে নানা জটিলতার কারণে আমরা ফলাফল প্রস্তুত করতে পারিনি। আমরা মাসের শেষের দিকে ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তবে ফল প্রকাশের কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি মাসেই ফল প্রকাশ করা হবে।

মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই স্থগিত পরীক্ষাগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করবো।— অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন একাধিকবার ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। ফল প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ করতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিকে নির্দেশনাও দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী কাজ চলছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ হচ্ছে না।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০ জুলাইকে লক্ষ্য করেই এসএসসি ও সমমানের ফল প্রস্তুতের কাজ চলছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জরুরি প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ফল প্রকাশে কয়েক দিন দেরি হতে পারে।

এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা জানিয়েছে সরকার।

এছাড়াও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার তিনটি বিষয়ে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এসব পুনঃপরীক্ষায় কারা অংশ নিতে পারবেন, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া হবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের বৈঠকের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করা হলে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।— অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, সভাপতি, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। 

শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৩ জুলাই পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় যারা অনুপস্থিত ছিলেন, তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই স্থগিত পরীক্ষাগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করবো।

তিনি আরও বলেন, দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে আমরা মোটামুটি প্রস্তুত। বাকি কাজ শেষ করতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগবে। এরপর মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করবে। তবে চলতি মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। বৈঠকের পর পরীক্ষার্থীদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করা হলে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।