এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান আবিদের
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা, টানা অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবিদুল ইসলাম খান। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজের আইডিতে এ দাবি জানান তিনি। এইচএসসি পরীক্ষা ছাত্রজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বলে তিনি এতে উল্লেখ করেন।
আবিদুল ইসলাম খান বলেন, দেশজুড়ে টানা ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ অন্তত সাতটি জেলার প্রায় দশ লক্ষ মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণ গেছে চল্লিশের বেশি মানুষের। সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, রাজধানী ঢাকাতেও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। ঠিক এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে দেশের লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার পরীক্ষা কয়েক দফা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, সিলেট বোর্ডের পরীক্ষাও স্থগিতের সুপারিশ এসেছে। অথচ দেশের বাকি বোর্ডগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করেই পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি মেনে পরীক্ষা চলছে। রাজধানীতে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোই যেখানে দুরূহ হয়ে উঠেছে, সেখানে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বারবার পরীক্ষা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।
ছাত্রদলের এই নেতা আরও বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা ছাত্রজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই একটি পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার, এমনকি পুরো ভবিষ্যতের গতিপথ। এত বড় গুরুত্বের একটি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীকে যদি জলাবদ্ধ রাস্তা পেরিয়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ঝুঁকি নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়, তাহলে সেই কষ্ট ও উদ্বেগ তার পরীক্ষার প্রস্তুতি ও মানসিক স্থিরতাকেও প্রভাবিত করে। আমরা চাই না একজন শিক্ষার্থীরও এই পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে অহেতুক কষ্ট পোহাতে হোক কিংবা জীবনের ঝুঁকি নিতে হোক।’’
‘‘তাই দেশের প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির মধ্যে যেসব পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে অনুরোধ জানাই, সামনের প্রতিটি পরীক্ষার আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস পর্যালোচনা করে, মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে তবেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও জরুরি, যাতে একই দুর্যোগে একেক বোর্ড একেক সিদ্ধান্ত না নেয়। একজন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করাই হোক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রথম মানদণ্ড।’’