ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা: গাইবান্ধায় ৯ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি
গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় চরম দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্র সচিব) ও ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দেশব্যাপী এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ২০২৫ সালের অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র, আর অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা পান ২০২৬ সালের প্রশ্ন। এই গাফিলতির শিকার হন মোট ৬১ জন পরীক্ষার্থী।
অব্যাহতি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্র সচিব) এস. এম. আসাদুল ইসলাম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ার হোসেন—যিনি ওই কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ছাড়া কেন্দ্রের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির তিন সদস্য ও দুই কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মনিরুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে ভুল তথ্য দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন মোট ৬১ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ৫০ জন এবং ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ জন।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। এটি অনেক বড় দায়িত্বহীনতা। বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরীক্ষা শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে ভুল বোঝার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কলেজ অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিবের কক্ষে যান। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানালেও কথোপকথনের একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ঘটনার দিনই দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি পত্রে সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দিতে নির্দেশনা দিয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। পরদিন ৩ জুলাই জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত এক পত্রে সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ওই কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ট্যাগ অফিসার ও পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কসহ সংশ্লিষ্ট কক্ষের সব কক্ষ প্রত্যক্ষককে অব্যাহতির কথা জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বরত শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করায় এই চরম ভুল ঘটে। শিক্ষা বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসানো হয়নি।
দায়িত্বজ্ঞানহীন এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ৬১ পরীক্ষার্থীর খাতা শিক্ষা বোর্ড কীভাবে মূল্যায়ন করবে—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। অভিভাবকরা এই বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ইতিমধ্যে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় কাটছে না। সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ভুক্তভোগী ৬১ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল কীভাবে নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২ জুলাই ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সারা দেশে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলে ১টা পর্যন্ত। প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় গাইবান্ধায় সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৭১ জন।