০২ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪০

এইচএসসিতে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলেন ২৫ পরীক্ষার্থী

গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র  © টিডিসি ফটো

দেশব্যাপী এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই চরম অব্যবস্থাপনার ঘটনা ঘটল গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের দেয়া হলো অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র। এতে ২৫ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের দুটি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। দায়িত্বরত শিক্ষকরা অসাবধানতাবশত নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সিলেবাসের বাংলা প্রথমপত্র প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন। পরীক্ষার্থীরা সাধারণ নিয়মেই পরীক্ষা সম্পন্ন করে কেন্দ্র থেকে বের হন। কিন্তু পরীক্ষা শেষে সহপাঠীদের সাথে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার পর তারা বুঝতে পারেন—তারা সম্পূর্ণ ভুল সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এই চরম গাফিলতির শিকার হয়েছেন সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ২৫ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী এক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের না জানিয়ে সম্পূর্ণ ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড যদি এই খাতা বাতিল করে দেয়, তবে আমাদের ফলাফল চরম ঝুঁকিতে পড়বে।

এক অভিভাবক অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, কেন্দ্রের এমন খামখেয়ালি ভুলের কারণে আমাদের সন্তানদের একটি মূল্যবান বছর জীবন থেকে হারিয়ে যেতে পারে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর বিচার চাই।

ঘটনা জানাজানি হলে কলেজ প্রাঙ্গণে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ বিষয়ে ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব এস. এম. আসাদুল ইসলাম দায় এড়ানোর ভঙ্গিতে বলেন, যে প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেওয়া হোক না কেন, সেই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতেই খাতা মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের ভয়ের কিছু নেই। আমি এ বিষয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষা বোর্ডের সাথে কথা বলেছি।

তবে কেন্দ্র সচিবের এই বক্তব্যকে পুরোপুরি খামখেয়ালি বলে অভিহিত করেছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের সম্পূর্ণ দায় কেন্দ্র সচিবের। শিক্ষা বোর্ডের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সবসময় আলাদা কক্ষে বসাতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র বিতরণের ঠিক আগে তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া বাধ্যতামূলক। কেন এই নির্দেশনা মানা হয়নি, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দায়িত্বজ্ঞানহীন এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ২৫ পরীক্ষার্থীর খাতা শিক্ষা বোর্ড কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। অভিভাবকরা এই বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের জরুরি ও লিখিত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি।