০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০

বাংলা ১ম পত্র দিয়ে চলতি বছরের এইচএসসি–সমমানের পরীক্ষা শুরু

শেরপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে প্রবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি ফটো

সারা দেশে একযোগে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষা শুরু হয়। এবার মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে কেন্দ্রে এসেছেন অভিভাবকেরাও। পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের পর বাইরে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন তারা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র রয়েছেন ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা এটিকে নারী শিক্ষায় ইতিবাচক অগ্রগতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানান, দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার একক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় বেশি, যা নারী শিক্ষার অগ্রগতির একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।

এদিকে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

গত বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। সে সময় নিবন্ধিত সোয়া ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। এক বছরের ব্যবধানে এ হার প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। বাকি ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন ফরম পূরণ করেননি। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। ফলে এক বছরে এই হার প্রায় ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আলিম প্রথম বর্ষে নিবন্ধন করেছিলেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। ৬১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেননি, যা মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর ৪৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৫ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় একাদশ শ্রেণিতে (ভোকেশনাল) নিবন্ধন করেছিলেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে মাত্র ৭৫ হাজার ১৯৭ জন পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। বাকি ৯০ হাজার ৩৪৫ জন ফরম পূরণ করেননি। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশই এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।