আগের বিসিএসে পররাষ্ট্রে প্রথম ফাতিনের ফোনে নিজের ফার্স্ট হওয়ার খবর পান তানভীর
৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র (ফরেন) ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র তানভীর রহমান। ফল প্রকাশের দিন ফুটবল খেলতে মাঠে থাকাকালেই তিনি নিজের সাফল্যের খবর জানতে পারেন ৪৬তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া ফাতিন ইশরাকের কাছ থেকে। এর আগে, তার ছোট বোন ফল প্রকাশের খবর জানায়।
তানভীর রহমান বলেন, বলেন, ফল প্রকাশের দিন আমি ফুটবল খেলতে মাঠে ছিলাম। তখন ছোট বোন ফোন করে ফল প্রকাশের খবর জানায়। একই সময়ে ৪৬তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া ফাতিন ইশরাক ভাইও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আমি শুধু আশা করেছিলাম কোনো একটি ক্যাডারে সুপারিশ পাব। কিন্তু পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হব, তা ভাবিনি।
পররাষ্ট্র ক্যাডারকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিসিএসে আবেদন করার আগে বাবার সঙ্গে আলোচনা করি। তিনিই পররাষ্ট্র ক্যাডারকে প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখতে পরামর্শ দেন। শুরুতে এটি পারিবারিক সিদ্ধান্ত ছিল। পরে এই ক্যাডার সম্পর্কে জানার পর নিজেরও আগ্রহ তৈরি হয়। আলহামদুলিল্লাহ, শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নই পূরণ হয়েছে।
প্রস্তুতির কৌশল সম্পর্কে তানভীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে ওঠার পর প্রশ্নব্যাংক দেখে প্রস্তুতি শুরু করি। আলাদা কোনো কৌশল ছিল না। স্নাতক শেষ করার পরপরই আমি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিই। পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি ছিল না। পরীক্ষা ছিল, তাই যতটুকু সময় পেয়েছি, ততটুকুই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছি। আমি একটি বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি—নিয়মিত পড়াশোনা। প্রতিদিন দুই-তিন ঘণ্টা করে পড়াশোনার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, এ ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত বড় শক্তি ছিল।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মূলত সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট নিয়মিত দিতাম। প্রতিটি পরীক্ষার পর নম্বরের চেয়ে ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে সেগুলোই বারবার রিভিশন দিতাম।’
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তিনি বিভিন্ন বই, অনলাইন রিসোর্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) টুল ব্যবহার করেছেন বলে জানান। তার ভাষায়, ‘লিখিত পরীক্ষার জন্য আমার হাতে দুই মাসের মতো সময় ছিল। তাই অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেই সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করতাম। সময় কম থাকায় গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান—যেগুলো আমার শক্তিশালী বিষয় ছিল, সেগুলোতে তুলনামূলক কম সময় দিয়েছি। অন্যদিকে বাংলা, বাংলা সাহিত্য, গ্রন্থসমালোচনা, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ বিষয়াবলির মতো দুর্বল বিষয়গুলোতে বেশি সময় দিয়েছি। শক্তি ও দুর্বলতা অনুযায়ী সময় ভাগ করাই আমার জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল ছিল।’
ভাইভা প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভাইভার আগে একটি প্রস্তুতি গ্রুপে যুক্ত ছিলাম। সেখানে সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিজের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিই।’
ভবিষ্যতে কোন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা রয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে তানভীর বলেন, সুযোগ পেলে আমি সৌদি আরবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। কারণ, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরব। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করতে চাই। পাশাপাশি একজন মুসলিম হিসেবে সৌদি আরবের প্রতি আমার ব্যক্তিগত আবেগ ও শ্রদ্ধাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, তানভীর রহমানের বাড়ি নেত্রকোনার সদর উপজেলার বাগরা গ্রামে। তার শিক্ষা জীবন শুরু নেত্রকোনার বাঘরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ভর্তি হন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে। এরপর ভর্তির সুযোগ পান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। স্নাতক শেষ করার পরপরই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি চালিয়ে যান এবং প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েই পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। এর আগে তিনি ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।