১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৪

বিসিএস ক্যাডার হয়েই সরাসরি ইউএনও মুশফিক!

নাটকের দৃশ্যে মুশফিক আর ফারহান  © সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহান অভিনীত ‘পথের সাথীকে চিনে নিও’ নাটকের একটি দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। নাটকে মইন খান চরিত্রে অভিনয় করা ফারহানকে বিসিএস ক্যাডার হয়ে চাকরির প্রথম দিনেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে যোগ দিতে দেখা যায়। 

এ ছাড়া চরিত্রটির পদবিতে ‘অ্যাসোসিয়েট ম্যাজিস্ট্রেট’ উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকরা। নাটকের এক পর্যায়ের অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া ফারহানকে বলেন, ‘তুমি অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট ম্যাজিস্ট্রেট মইন খান। অভিনন্দন।’

সচেতন দর্শকদের দাবি, প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের পর সরাসরি ইউএনও হওয়া এবং ‘অ্যাসোসিয়েট ম্যাজিস্ট্রেট’ নামে পদ দেখানো বাস্তব সরকারি চাকরির কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থাৎ নাটকে মইনের পদ ‘অ্যাসোসিয়েট ম্যাজিস্ট্রেট’ নামে কোনো পদ বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে নেই। নাটকে উত্তরাকেও উপজেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যমতে, অ্যাডমিন ক্যাডারে অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার হিসেবে বেশ কয়েক বছর চাকরি করে পদোন্নতি পেয়ে তারপর ইউএনও হতে হয়। এক্ষত্রে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করেন। বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সরকার প্রয়োজনবোধে এই ক্ষমতা অর্পণ করতে পারে। এছাড়া নাটকে নামফলকে উত্তরাকে উপজেলা হিসেবে উল্লেখ করার কারণেও অনেকে সমালোচনা করছেন।

এর আগে আনিসুর রহমান রাজিবের ‘সে প্রথম প্রেম আমার’ নাটকের একটি দৃশ্য নিয়েও হাসাহাসি হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সে দৃশ্যে বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয় গল্পের নায়ক তথা ফারহান আহমেদ জোভান। নাটকটিতে তার সঙ্গে আছেন আইশা খান।

এদিকে ফারহানের পদের অভিনয় নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেকে। মোহাম্মদ রবিন পারভেজ লিখেছেন, ‘এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দিন শেষ, আসছে এসোসিয়েট ম্যাজিস্ট্রেট। মানে, এসব নাটক বানানোর আগে ন্যূনতম পড়াশোনাও করে না? এখন তো এআইকে বললেও এসব তথ্য দিয়ে যায়। কিছুদিন আগে বানিয়েছিল পররাষ্ট্র ক্যাডার নিয়ে। কতটা অযোগ্য লোকজন আমাদের দেশে নাটক বানায়! ভাই, আপনারা ক্যাডার সার্ভিসকে মাফ করে দেন।’

আতিক রাব্বানী নামে একজন লিখেছেন, ‘মেসের ৭০% ছেলে মিথ্যা কথা বলে পরিবারের সাথে, সত্যিই অনেক কষ্ট করে দিন কাটায়। মেয়েরা হয়তো অনেক সময় রান্না করে খেতে পারে, কিন্তু ছেলেদের অনেকেরই সেই সুযোগ থাকে না। আর্থিক অবস্থার কারণে বাইরে খেতে পারে না, আবার মেসের খাবারও এমন যে গিলতে কষ্ট হয় মনে হয় কোনো পশুকেও এমন খাবার দেওয়া যায় না! এত কষ্ট, এত হিসাব-নিকাশ, এত রাত জাগা সবকিছুর পেছনে একটাই ইচ্ছা, দিন শেষে যেন একজন সরকারি কর্মকর্তা হতে পারি ‘

আবার নাটকটির প্রশংসাও করেছেন অনেকে। চেয়েছেন দ্বিতীয় পার্টও। একজন লিখেছেন, নাটকটা সত্যিই দারুণ লেগেছে। গল্প, অভিনয় আর উপস্থাপন—সবকিছুই মন ছুঁয়ে গেছে। প্রথম পর্বেই যখন এতটা ভালো লেগেছে, দ্বিতীয় পর্বে কী আছে সেটা জানার আগ্রহটা এখন আরও বেড়ে গেল! পরিচালক ভাই, দ্বিতীয় পর্বটা একটু তাড়াতাড়ি চাই!’