ফুসফুসে বালি, রাহুলের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যা মিলছে
কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) একটি ধারাবাহিকের শুটিংয়ে গিয়ে পানিতে নেমে তলিয়ে যান তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় তমলুক হাসপাতালে শুরু হয় অভিনেতার মরদেহ ময়নাতদন্ত।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে তার। দীর্ঘসময় পানির নিচে ছিলেন রাহুল। ফলে তাঁর ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে। ফুসফুসের ভেতর অত্যাধিক পরিমাণে বালি ও নোনা পানি মিলেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অল্প সময় পানিতে ডুবে থাকলে ফুসফুসের ভেতরে এত বালু যাওয়া সম্ভব নয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় পানির নিচে ছিল রাহুলের মরদেহ। পানিতে ডুবে থাকার ফলে তার খাদ্যনালিতেও বালি ও নোনা জল প্রবেশ করেছে।
ঘটনাস্থলের ভিডিও ও বর্ণনায় যা মিলছে:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেজ তাদের হাতে এসেছে। তালসারির সৈকতে শুটিং সেটে একাধিক ক্যামেরা বসানো ছিল, সেগুলোর ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের একটি দৃশ্যের শুটিং চলছিল। সেখানে রাহুল ও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার একটি নাচের দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছিল। দৃশ্য অনুযায়ী, গোড়ালিসমান পানিতে দাঁড়িয়ে অভিনয় করার কথা ছিল।
ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মিলিয়ে জানা গেছে, শুটিংয়ের সময় দুজন ধীরে ধীরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। কিছুটা এগোনোর পর শ্বেতা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁকে বাঁচাতে বা ধরে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে রাহুলও পড়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় সমুদ্রে জোয়ার শুরু হচ্ছিল। পানির স্রোতের ধাক্কায় রাহুল কিছুটা দূরে ভেসে যান। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত শ্বেতাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রাহুলকে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করা যায়নি। প্রায় দুই ঘণ্টার তল্লাশি শেষে টেকনিশিয়ানরাই তাঁকে উদ্ধার করেন বলে জানা গেছে।
পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল জানান, বিকেল প্রায় পাঁচটার দিকে শুটিং চলছিল। দৃশ্য অনুযায়ী, সাগরপাড়ে অল্প পানিতেই অভিনয়ের কথা ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাহুল হঠাৎ নির্ধারিত সীমার বাইরে সমুদ্রের দিকে এগোতে শুরু করেন। ইউনিটের পক্ষ থেকে বারবার থামতে বলা হলেও তিনি এগোতেই থাকেন। একপর্যায়ে কোমরসমান পানিতে পৌঁছে যান তিনি। পরিচালক জানান, সেই সময়েও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার হাত ধরে ছিলেন রাহুল। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ বুঝে ইউনিটের কয়েকজন সদস্য ও আশপাশের নৌকার লোকজন সতর্ক হয়ে এগিয়ে আসেন। এ সময় আচমকাই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন রাহুল। তিনি ঢেউয়ে ডুবে যেতে থাকেন এবং কিছু পরিমাণ পানি গিলে ফেলেন। দ্রুত তাঁকে টেনে তোলা হলেও পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়ে।