২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১

অনলাইনে মতামত প্রকাশে নিজেদের ‘গুটিয়ে নিচ্ছেন’ সাংবাদিকেরা

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

রাজনীতি, সরকারের সমালোচনা, ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি কিংবা ধর্ষণের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও প্রকাশ্যে মতামত দিতে সংকোচ বোধ করছেন বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিক। সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি, হয়রানি ও হুমকির আশঙ্কায় সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের মতপ্রকাশ সীমিত করছেন তারা। ছোট পরিসরে পরিচালিত এক জরিপে সাংবাদিকদের এমন প্রবণতার চিত্র উঠে এসেছে।

ডেটা জার্নালিজম নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ডেটাফুলের ‘এক্সপ্রেশন পালস’ জরিপের প্রথম পর্বে অংশ নেন ২২ জন সংবাদকর্মী। গত ১০ থেকে ২৫ আগস্ট সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। গত ছয় মাসে সাংবাদিকদের ডিজিটাল মাধ্যমে মতপ্রকাশের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে এই জরিপে।

অনলাইনে চুপ থাকেন ১৮ জন

জরিপে অংশ নেওয়া ২২ জন সাংবাদিকের মধ্যে ১৮ জন জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতির আশঙ্কায় গত ছয় মাসে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনলাইনে মতামত প্রকাশ থেকে তারা বিরত থেকেছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন জানিয়েছেন, তারা প্রায়ই এমনটা করেছেন।

এ ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ১৯ জন সাংবাদিক বলেছেন, বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের বিষয়ে আলোচনা এড়িয়ে চলেন তারা। ২২ জনের মধ্যে ১৫ জন জানিয়েছেন, ছয় মাস আগের তুলনায় এখন সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশে তারা কম স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এই ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন বলেছেন, তাদের স্বাচ্ছন্দ্য ‘অনেক কমেছে’। আর ৬ জন জানিয়েছেন, তা ‘কিছুটা কমেছে’।

মতপ্রকাশে পড়েছে ‘চিলিং এফেক্ট’

অন্য কারও ওপর ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নিজের মতপ্রকাশের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করলে তাকে ‘চিলিং এফেক্ট’ বলা হয়। জরিপে সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে এমন প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

অনলাইনে মতপ্রকাশের কারণে অন্য কোনো সাংবাদিক আক্রমণ বা হয়রানির শিকার হলে তা নিজের মতপ্রকাশের ওপর প্রভাব ফেলে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ২১ জন। তাদের সবাই জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনার প্রভাব তাদের নিজেদের মতপ্রকাশের সিদ্ধান্তে পড়ে।

অনলাইনের আতঙ্ক গড়িয়ে অফলাইনে

সাংবাদিকদের উদ্বেগ শুধু অনলাইনে ট্রলিং, অ্যাকাউন্ট হ্যাক কিংবা ডিজিটাল নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সীমাবদ্ধ নেই। জরিপে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের কেউ কেউ সংঘবদ্ধ অনলাইন হয়রানি, হুমকি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও সুনামহানির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন।

এ ছাড়া পেশাগত ক্ষতি, কর্মস্থলে চাপ, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং আইনি জটিলতার আশঙ্কার বিষয়ও উঠে এসেছে। নিজের পাশাপাশি পরিবারের শারীরিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিক।

জরিপে অংশ নেওয়া ১৩ জন সাংবাদিক বলেছেন, নেতিবাচক পরিণতির আশঙ্কা শুধু তাদের ব্যক্তিগত মতপ্রকাশেই প্রভাব ফেলছে না। এর প্রভাব পড়ছে তাদের পেশাগত সাংবাদিকতার ওপরও।