মাগুরায় শিশু ধর্ষণ: মামলার এজহারে যা আছে

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি  © ফাইল ছবি

মাগুরায় চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে বড় বোন ও বাবাকে দিয়ে মাগুরা সদর থানায় এজাহার পাঠান শিশুটির মা। মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন- শিশুটির বোন জামাই সজিব (১৮), বোনের শ্বশুর হিটু শেখ (৪২), বোন জামাইয়ের বড় ভাই রাতুল (২০) এবং বোনের শাশুড়ি জাহেদা (৪৫)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটি ঢাকায় চিকিৎসাধীন। মায়ের পাঠানো এজাহার অনুযায়ী মামলা রুজু হয়েছে। আগে থেকে হেফাজতে থাকা চার আসামিকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘শিশুটির বড় বোনের সঙ্গে মাগুরা পৌরসভার নিজনান্দুয়ালী মাঠপাড়ার হিটু শেখের (৪২) ছোট ছেলে সজীব শেখের (১৮) বিয়ে হয় চার মাস আগে। ওই বাড়িতে হিটু শেখ, তাঁর স্ত্রী জাহেদা খাতুন (৪৫), বড় ছেলে রাতুল শেখ (২০) ও ছোট ছেলে সজীব শেখ থাকতেন। বিয়ের পর থেকে বড় মেয়েকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন তাঁর শ্বশুর। বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যরা জানতেন। এ নিয়ে ঝগড়াও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১ মার্চ নিজনান্দুয়ালীতে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায় আট বছরের শিশুটি।

গত বুধবার (৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে খাবার খেয়ে বড় বোন ও তাঁর স্বামীর সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমায় শিশুটি। রাত আড়াইটার দিকে বড় বোন ঘুম থেকে জেগে দেখেন, ছোট বোন পাশে নেই, মেঝেতে পড়ে আছে। তখন শিশুটি বড় বোনকে জানায়, তার যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়া হচ্ছে। কিন্তু বড় বোন মনে করে, শিশুটি ঘুমের মধ্যে আবোলতাবোল বকছে। এরপর সকাল ছয়টার দিকে শিশুটি আবার বোনকে যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়ার কথা বলে। কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বোনকে জানায়, রাতে দুলাভাই (সজীব) দরজা খুলে দিলে তাঁর বাবা (হিটু শেখ) তার মুখ চেপে ধরে তাঁর কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। সে চিৎকার করতে গেলে তার গলা চেপে ধরা হয়। পরে তাকে আবার বোনের কক্ষের মেঝেতে ফেলে রেখে যায়।’

এজাহারে আরও বলা হয়, ‘ঘটনা জানার পর শিশুটির বড় বোন তাঁর মাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানাতে গেলে তাঁর স্বামী সজীব শেখ মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এ কথা কাউকে বললে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেন এবং তাদের দুই বোনকে আলাদা দুটি কক্ষে আটকে রাখেন। সকালে জোহরা নামের এক নারী প্রতিবেশী বাড়িতে এলে বোনের ভাশুর রাতুল শেখ দরজা খুলে দেন। তখন শিশুটির মাথায় পানি দিয়ে সুস্থ করানোর চেষ্টা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে বোনের শাশুড়ি অন্য প্রতিবেশীদের সহায়তায় মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে মেয়েটিকে জিনে ধরেছে বলে চিকিৎসকদের জানান। তবে চিকিৎসক ও অন্যরা বিষয়টি টের পেলে শাশুড়ি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। পরে বাদী হাসপাতালে যান।’


সর্বশেষ সংবাদ