ঢাকা কলেজে বিক্ষোভ থেকে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক
- ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি
- প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩৭ AM , আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩৭ AM

দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ধর্ষণ, নগরজুড়ে ছিনতাই আতঙ্ক ও গণ-অভ্যুত্থানের আগের সময়ের মতো ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ এবং শিক্ষাঙ্গনে ‘সন্ত্রাস-আধিপত্যের রাজনীতি কায়েমের’ বিরুদ্ধে মশাল মিছিল করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা কলেজ শাখার নেতা-কর্মীরা। এ কর্মসূচি থেকে দেশব্যাপী অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দেন তারা।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টায় ঢাকা কলেজ হলপাড়া থেকে মশাল মিছিলটি শুরু করেন তারা। ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সাইন্সল্যাব হয়ে নীলক্ষেত মোড় ঘুরে ঢাকা কলেজে মূল ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয় কর্মসূচি।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা, ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘ছিনতাইকারীর কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘সন্ত্রাসের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘ধর্ষকেরা রাস্তায় ঘুরে, প্রশাসন কি করে?’, ‘সন্ত্রাসীরা রাস্তায় ঘুরে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কি করে?’ ‘কুয়েটে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘একটা একটা চাঁদবাজ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘ক্যাম্পাসে আধিপত্য, মানি না, মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা কলেজ শাখার মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম হাফিজ বলেন, রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মাওয়া ঘাটে ট্রলারে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও রংপুর মিঠাপুকুরে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নগরজুড়ে ছিনতাই আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নগরে, জেলায় অপরাজনীতি চলছে।
এসব প্রতিরোধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মশাল মিছিল করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নয়া বিচারহীনতা, সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেশে অরাজকতার বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিচ্ছি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলব, এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিন, না হলে পদত্যাগ করুন।
আরো পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গিয়ে ধর্ষণের শিকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা কলেজ শাখা আহবায়ক আফজাল হোসেন রাকিব বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, ডাকাতি, রাহাজানি এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির মতো বিভিন্ন ধরণের ঘটনা আমরা প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করছি। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন। তা না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নূন্যতম পরিমাণ ছাড় দেবে না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি পুলিশের ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নীরব ভূমিকা। এগুলো আমাদের স্বৈরাচারের সময়ের দৃশ্যগুলো মনে করিয়ে দেয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলব, হয় পদত্যাগ করুন, না হয় বিচার নিশ্চিত করুন।
এখন থেকে বাংলাদেশে কোথাও যদি ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেম্পুস্ট্যান্ড দখল হয়, তাহলে আপনার (স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা) পদত্যাগ ছাত্রজনতা করাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সব সময় সজাগ রয়েছে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে যেকোনো অন্যায়-অবিচার প্রতিরোধে রাজপথে থাকবেন তারা।