নিজের ঈদের চেয়ে জনগণের ঈদ শান্তিপূর্ণ হওয়াটাই বড় বিষয়

আজহারুল ইসলাম
আজহারুল ইসলাম  © টিডিসি সম্পাদিত

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। তার ওপর এটি যদি হয়, ঈদ উল ফিতর তবে তো আর কথাই নেই। আনন্দ আর খুশির মাত্রা বেড়ে যায় বহুগুণ। যশোরবাসীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদ নিশ্চিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সেটাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। নিজের ঈদ নিয়ে ভাবনার চেয়ে যশোরবাসীর নিরাপত্তা ও আনন্দই তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদ স্মৃতি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলছেন জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যশোর প্রতিনিধি রুহুল আমিন—

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: এবারের ঈদ নিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন?

আজহারুল ইসলাম: চাকরি জীবনে ব্যক্তিগতভাবে ঈদ অনুভব করার তেমন সুযোগ পাইনি। এবারের ঈদও ব্যতিক্রম নয়। আমার প্রধান লক্ষ্য যশোরবাসীকে আনন্দমুখর ও নিরাপদ ঈদ উপহার দেওয়া। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে যারা পরিবারের কাছে যশোরে ফিরেছেন, তারা যেন নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করে নিরাপদে ফিরতে পারেন, সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যশোরের মানুষ ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করলে সেটাই হবে আমার ঈদের আনন্দ।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: যশোরে আপনার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা কেমন?

আজহারুল ইসলাম: যশোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে কাজ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এখানকার মানুষ অনেক আন্তরিক ও সহযোগিতাপ্রবণ। আমি নিজেকে যশোর পরিবারের একজন সদস্য মনে করি। তাই যশোরবাসীর কল্যাণে সর্বদা কাজ করে যাওয়াটাই আমার দায়িত্ব।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ঈদ উদযাপনের সময় প্রশাসনিক ব্যস্ততা কেমন থাকে?

আজহারুল ইসলাম: ঈদের সময় প্রশাসনের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যান চলাচল, বাজার তদারকি, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহসহ নানা বিষয়ে সজাগ থাকতে হয়। ঈদের দিনেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে থাকেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: এবার ঈদ কিভাবে উদযাপন করবেন?

আজহারুল ইসলাম: যশোরবাসী আমার আপনজন, তাই তাদের সাথেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবো। সকাল ৮টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবো। এরপর সুধী সমাজ, সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবো, বুকে বুক মিলিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবো।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ঈদের নামাজের পর কোনো বিশেষ আয়োজন থাকবে কি?

আজহারুল ইসলাম: হ্যাঁ, ঈদের নামাজের পর আমার বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন থাকছে। সেখানে যশোরের সুধী সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা আসবেন। তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবো, আনন্দ ভাগাভাগি করবো।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ঈদের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে?

আজহারুল ইসলাম: আমরা ঈদের আগে থেকেই বাজার মনিটরিং, যানজট নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চালু রেখেছি। ঈদের দিনেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। বিশেষ করে যেসব জায়গায় প্রচুর লোকসমাগম হয়, যেমন ঈদগাহ, বিনোদন কেন্দ্র, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন—সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য কোনো বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন কি?

আজহারুল ইসলাম: জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদান করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফ ও ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও উৎসাহিত করছি, যাতে তারা নিজ নিজ জায়গা থেকে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ঈদের ছুটিতে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা আছে?

আজহারুল ইসলাম: এবারের ঈদে দুইটি বিশেষ স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। ঈদের দিন যশোর ক্যান্টনমেন্টে জিওসির বাসভবনে যাবো এবং ঈদের পরের দিন খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবনে যাবো।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ঈদে যশোরের মানুষের জন্য আপনার কোনো বার্তা আছে?

আজহারুল ইসলাম: আমি যশোরবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক। আপনারা যেন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি আমাদের সমাজের অসহায় মানুষদেরও যেন ভুলে না যাই। সবার ঈদ নিরাপদ ও আনন্দময় হোক—এটাই আমার কামনা।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আজহারুল ইসলাম: আপনাকেও ধন্যবাদ।


সর্বশেষ সংবাদ