ঈদ আনন্দ নেই ৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর ঘরে
- শিহাব উদ্দিন
- প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ০৭:৪৯ PM , আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৫, ০৮:৩৬ PM

শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল সোমবার সারা দেশ মেতে উঠবে ঈদের আননেদ। কিন্তু আট হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর ঘরে ঈদ আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি। মেলেনি বেতন-ভাতা। শিক্ষকদের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার অভাবেই এই অবস্থা। তারা চাইলেই ঈদের আগে বেতন-ভাতা দিতে পারতেন।
ভোগান্তি লাঘবের কথা বলে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি)’র মাধ্যমে বেতন-ভাতা দেয়া শুরু হলেও এখন এটি শিক্ষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য যাচাই শেষ না হওয়ায় ৮ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। ঈদের পর দ্রুত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে।
জানতে চাইলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান বলেন, ‘চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোট এমপিওভুক্ত জনবল ছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৫। ওই মাসে এমপিও ছাড় হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩৫০ জনের। অবশিষ্ট ৮ হাজার ৩৮০ জনের তথ্য সংশোধন চেষ্টা ছিল, কিন্তু পুরো তথ্য মাঠ পর্যায় থেকে আসেনি। যার কারণে তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
শিক্ষক-কর্মচারীরা বলছেন, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে যখন সবাই ব্যস্ত। তখন প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পরিবারের ঘরে ঈদ আনন্দ নেই। মাউশি কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে দীর্ঘদিনেও মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য যাচাই হয়নি। এর দায় মাউশিকেই নিতে হবে।
নাহিদ পারভেজ পাভেল নামে এক শিক্ষক জানান, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদার বৈষম্য অনেক বেশি। সামনে তরুণ প্রজন্ম শিক্ষক হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা যখন, তখন দূর দূরান্তে শিক্ষক জিন্দা লাশ হয়ে পরেছে। বেতন-বোনাসের সামান্য অর্থ পরিশোধ করতে সরকারকে হিমশিম খেতে হয়। শিক্ষকদের এমন করুণ অবস্থায় রেখে সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
ওমর ফারুক বলেন, ‘সবাই ঈদের আনন্দে মাতোয়ারা হলেও প্রায় সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-বোনাস না পাওয়ায় চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন। শিক্ষকদের সামান্য কিছু টাকা দেওয়া হয়, সেখানেও এভাবে বেতন আটকে রাখলে কষ্টের সীমা থাকে না।’
জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পান। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে ছাড় হলেও তা রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে ছাড় হয়। এই অর্থ তুলতে শিক্ষকদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইএফটিতে বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওর বেতন-ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের ২০৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অক্টোবর মাসের এমপিও ইএফটিতে ছাড় হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১ জানুয়ারি ১ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষক ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা পেয়েছেন।
দ্বিতীয় ধাপে ৬৭ হাজার, তৃতীয় ধাপে ৮৪ হাজার এবং চতুর্থ ধাপে ৮ হাজার ২০০ এর অধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে ডিসেম্বর মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা জানুয়ারি মাসের বেতনও পেয়েছেন। তাদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদ উৎসব ভাতা গত শুক্রবার তুলতে পেরেছেন।
অন্যদিকে ৫ম ধাপে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে দুই মাসের বেতন ও ঈদ উৎসব ভাতা দেওয়া হয়েছে। তারও গত শুক্রবার ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে এখনো বেতন-ভাতার বাইরে রয়েছেন ৮ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী।