বৈধ পরিচয়পত্র নিয়ে হলে উঠলেন ছাত্রলীগের সাদ্দাম

হলের প্রাধ্যক্ষ ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন সাদ্দাম হোসেনকে
হলের প্রাধ্যক্ষ ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন সাদ্দাম হোসেনকে  © সংগৃহীত

সরকারের নির্দেশনা ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে অছাত্রদের অবস্থান আর গণরুম সংস্কৃতি বন্ধের। তাই দীর্ঘ বন্ধের পর খুলে দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোতে টিকা সনদ ও বৈধ ছাত্র পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত সেই শিক্ষার্থীদের সাথে ‘বৈধ’ কাগজপত্র দেখিয়ে হলে উঠেছেন স্নাতক ২০১১-১২ সেশনে ভর্তি হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনও। ছাত্রলীগের এই নেতা এখন ঢাবির আইন বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।  

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) সকালে কর্তৃপক্ষকে করোনাভাইরাসের টিকার সদন ও বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে ওঠেন সাদ্দাম। এসময় হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খানসহ আবাসিক শিক্ষকরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।  

হলে ওঠার পরে নিজ ফেসবুক ওয়ালে ছবি শেয়ার করে একটি স্টাটাস দেন ডাকসুর সাবেক এই সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস)।

ফেসবুক স্টাটাসে সাদ্দাম লেখেন, উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট এবং বৈধ ছাত্র পরিচয়পত্র দিয়ে দীর্ঘ আঠারো মাস পর আজ আমরা নিজ নিজ প্রাঙ্গনে প্রবেশ করলাম। আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফুল, ক্যান্ডি ও মাস্ক দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে। এখন আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে স্বাগত জানানোর জন্য।

সবাইকে মাস্ক পরিধান এবং সব সময় স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম লেখেন, হাজারো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবার তার ঐতিহ্যবাহী ও উৎসবমুখর পরিবেশে ফিরে আসবে বলে আমি আন্তরিকভাবে আশা করি।

আইন বিভাগের ছাত্র সাদ্দাম হোসেন ২০১১-১২ সেশনে স্নাতকে ভর্তি হয়ে চার বছরের ওই কোর্স শেষ করতে ৮ বছর সময় নেন। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে টানা অকৃতকার্য হয়ে চতুর্থবারের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালে তিনি প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষেও একবার করে অকৃতকার্য হন তিনি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতক পাশ করেন সাদ্দাম। এরপর স্নাতকোত্তরের জন্য ভর্তি হয়েছেন ছাত্রলীগের এই নেতা।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, আট বছরের বেশি কোনো শিক্ষার্থী ঢাবির নিয়মিত ছাত্র হিসেবে অধ্যায়ন করতে পারবে না। এই আট বছরের ভেতর ছয় বছরে স্নাতক ও দুই বছরের মধ্যে স্নাতকোত্তর করতে হবে। কিন্তু সাদ্দাম হোসেনের শুধু স্নাতক শেষ করতেই নিয়েছেন ৮ বছর। জানা যায়, মূলত, অনুষদের ডিনের বিশেষ ব্যবস্থায় সাদ্দাম হোসেন অতিরিক্ত সময় পান স্নাতক শেষ করার জন্য।

এখন স্নাতকোত্তরে ভর্তি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নয় বছর পরেও নিয়মিত ছাত্র হিসেবে ‘বৈধ’ কাগজপত্র দেখিয়ে হলে উঠেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সাদ্দাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন, যার মেয়াদ পরের বছর জুলাই মাসে শেষ হয়।


সর্বশেষ সংবাদ