আয়াতুল কুরসির ফজিলত ও গুরুত্ব
- টিডিসি ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৫, ১১:৩০ AM , আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৫, ১২:৪৫ PM

আয়াতুল কুরসি (সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৫) কুরআনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়াত। এটি আল্লাহর অসীম জ্ঞান, শক্তি ও সার্বভৌমত্বের বর্ণনা দেয়। হাদিসে আয়াতুল কুরসির অসংখ্য ফজিলত ও উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে এই আয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম।
হাদিস অনুযায়ী, আয়াতুল কুরসি কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আল্লাহর কিতাবে সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৮৮৩)। এটি পাঠ করলে মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর রহমত ও সুরক্ষায় থাকেন।
আয়াতুল কুরসি পড়ার অন্যতম ফজিলত হলো, এটি শয়তান ও অশুভ শক্তির কুমন্ত্রণার হাত থেকে রক্ষা করে। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি রাতে শোয়ার আগে আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার ওপর সারা রাত শয়তান কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৭৫)।
নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতিটি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।” (নাসাঈ, হাদিস: ১৩০০)।
যদি কেউ তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পড়ে, তাহলে আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন, যিনি তাকে সারা দিন শয়তান থেকে রক্ষা করেন (তাবারানি, আল-মুজামুল কাবির)। এছাড়া, ঘরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে সেখানে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না।
আয়াতুল কুরসি দোয়া কবুলের অন্যতম মাধ্যম। এটি আল্লাহর রহমত ও করুণা লাভের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। হাদিসে এসেছে, “আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও নিরাপত্তা লাভ হয়।”
হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পড়েন, তঁার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না। হজরত আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা.) রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? রাসুল (সা.) বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসি।
আয়াতুল কুরসি শুধু একটি আয়াত নয়, এটি বরকত, নিরাপত্তা ও আত্মার প্রশান্তির উৎস। প্রতিদিন নিয়মিত এই আয়াত পড়লে আল্লাহর রহমত, হেফাজত এবং জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের ইবাদতের অংশ হিসেবে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।