জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সমর্থনকারী ঢাকা কলেজ শিক্ষককে ওএসডি, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

মো. রহমতুল্লাহ
মো. রহমতুল্লাহ  © ফাইল ফটো

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সমর্থনকারী ঢাকা কলেজের আরবি ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রহমতুল্লাহকে ওএসডি এবং ভোলায় বদলিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ওই শিক্ষকের বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।  

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সহকারী অধ্যাপক রহমতুল্লাহ রাজনকে ওএসডি ও সরকারি ফজিলাতুন নেছা মহিলা কলেজ, ভোলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এর মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলে এই শিক্ষক অবমুক্ত হবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ওই শিক্ষকের ওএসডি এবং বদলির বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী কাইয়ুম মজুমদার বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা যখন চাকরি বাঁচাতে ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেননি। তখন রাজন স্যার ছিলেন তার বিপরীত। স্যার সব সময় অন্যায়ের বিপক্ষে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি কলেজে ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে কত ধরনের ট্যাগ খেয়েছেন, আমি তার বাস্তব সাক্ষী।’  

তিনি আরও বলেন, ‘স্যারকে আওয়ামী লীগ ট্যাগে ঢাকা কলেজ থেকে ভোলায় পাঠানো হয়েছে। তিনি যদি ভোলায় যান, যারা আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে কাজ করেছিল তাদের কি হবে? এই অন্যায় কখনো মেনে নেওয়া যায় না। এটাই কি জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকার প্রতিদান?’

আরবি ও  ইসলামী শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদউদ্দিন গালীব বলেন, ‘রাজন স্যারকে ডিপার্টমেন্টে আমার থেকে ভালো কেউ জানতো না। অ্যাকাডেমিক এর বাইরেও স্যারের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতো। অনেক চড়াই-উৎরাই পার করে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র স্যার দাঁড় করেছেন। কিন্তু আমাদের একজন প্রিন্সিপাল ছিলেন যিনি রাজন স্যারকে শিবির ট্যাগ দিয়ে কলেজ থেকে তাড়ানোর অনেক অপচেষ্টা করেছেন এবং আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের কার্যক্রম একপর্যায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারির হাতে হাত রেখে কিছু শিক্ষককে মহড়া দিতে দেখেছি। তারা ঠিকই ঢাকা কলেজে রয়ে গেছেন। কিন্তু ছাত্রবান্ধব রাজন স্যারকে কোন আঙ্গিকে বদলির আদেশ দেয়া হলো তা বোধগম্য নয়।অতিদ্রুত স্যারের বদলির আদেশ প্রত্যাহার চাই।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসে কলেজের শিক্ষার্থী এ জেড আনাস ভূঁইয়া লেখেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাকা কলেজের সিংহভাগ শিক্ষক যখন স্বৈরাচারের দোসরদের সহযোগিতা করেছে সেই সময় শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন রাজন স্যার। শুধু জুলাই অভ্যুত্থানেই নয় এর আগেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যায় পাশে পেয়েছিলাম এই শিক্ষাগুরুকে। শিক্ষার্থীদের অতি আপন হওয়ায় শিবির তকমাও পেতে হয়েছিল তাকে। তার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠনটি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সংগঠনের দায়িত্বে থাকা রাজন স্যার ও শিক্ষার্থীরা শিবির বলে তকমা দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের পা চাটা  শিক্ষকরা সবাই বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অথচ নিজের চাকরির ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো‌ সেই রাজন স্যারকে ঢাকা কলেজ থেকে তাড়ানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক, লজ্জাজনক ও হতাশাজনক।’

শিক্ষক রহমতুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যখন গোটা ঢাকা কলেজ ফ্যাসিস্ট এর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে, কখনো ছাত্রলীগকে খিচুড়ি খাইয়েছে, চিকিৎসার জন্য অর্থ সহযোগিতা করেছে তখনো আমি সাধারণ ছাত্রদের পাশে ছিলাম। তাদের উদ্বুদ্ধ করেছি বিভিন্ন ভাবে। তারই প্রতিদান হিসেবে এই বদলি। দুঃখ এটাই - যারা ফ্যাসিস্টদের প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিল, ২০/২৫ বছর ধরে ঢাকা কলেজে কর্মরত আছে তাদেরই হীন টার্গেট হয়েছে আমার মত সাধারণ শিক্ষক।’

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘বদলির কারণ আমাদের জানা নেই। এর আগেও তাকে বদলি করা হয়েছিল। মিনিস্ট্রিতে যোগাযোগ করতে হবে। আর সরকারি নিয়ম হলো তিন বছর পর বদলি করা, আমরা বহু বছর আছি অনেকেই। সব সময় নিয়মে হয় না, নিয়মের বাইরেও বদলি হয়।’ 


সর্বশেষ সংবাদ