১১ অভিযোগে ফাঁসছে ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন   © ফাইল ফটো

আইন লঙ্ঘন করায় ২৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ১১ ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ। সতর্ক করার পর ইতিমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়।

এ বিষয়ে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির ফল আসেনি। একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একেক ধরনের অভিযোগ। কিছু বিষয় ইউজিসি কার্যকর করবে। আর যেগুলো ইউজিসির কার্যকর করার ক্ষমতা নেই, সেগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

ইউজিসি সূত্র জানায়, বেসরকারি সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন ছাড়াই চালাচ্ছে কলা ও মানবিক অনুষদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও বিজ্ঞান অনুষদ। অপর একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন ছাড়াই চালাচ্ছে ১০টি প্রোগ্রাম।

আরো পড়ুন: রামদা ঠেকিয়ে নির্যাতন—চার ছাত্রলীগ কর্মী বহিষ্কার

চট্টগ্রাগের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দ্বের অভিযোগ। এ ছাড়া জমি কেনার অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই স্থায়ী কোনো ঠিকানা। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে সনদ বিক্রির অভিযোগ। অপরটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা অতিরিক্ত অ্যালাউন্স গ্রহণ, বিদেশ ভ্রমণ ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিয়ম বহির্ভূত কোটা ব্যবহার, জমি ও গাড়ি কেনায় অনিয়ম করেছে।

এমনকি শিক্ষকদের ভুয়া পিএইচডি গ্রহণ, বিদেশে টাকা পাচার ও ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দ্বের অভিযোগ রয়েছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে । গুরুতর অভিযোগ পাওয়া এই সাত বিশ্ববিদ্যালয় শাস্তির মুখে পড়তে পারে। বাকিগুলোর অভিযোগ প্রমাণ হলে সামান্য শাস্তি কিংবা সতর্কবার্তা পাবে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি ও ফরিদপুরের টাইমস ইউনিভার্সিটি বন্ধ করার কথা জানানো হয়েছে।

ইউজিসির সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফের আইন লঙ্ঘন করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। শুধু ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব জমিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়েছে। ফাউন্ডেশনের নামে কার্যক্রম চালাচ্ছে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়। আংশিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ১৪টি। নির্ধারিত জমির চেয়ে কম জমিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে দুটি। ক্যাম্পাস নির্মাণাধীন ১০টির। নিজস্ব জমিতে এখনো নির্মাণকাজ শুরু করেনি ২১টি।

এ ছাড়া সিন্ডিকেটের সভা হয়নি ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের। একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হয়নি ১৯টির। অর্থ-কমিটির সভা হয়নি ২২টির।  মাত্র ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগকৃত নিরীক্ষা ফার্ম থেকে নিরীক্ষা করে কমিশনে পাঠিয়ে। ছয় মাসের সেমিস্টারের কথা বলা হলেও সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে চার মাসের সেমিস্টার।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘ইউজিসি জিরো টলারেন্সে যাবে। বহুদিন ধরেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এটি বলে আসা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জীবন জড়িত থাকায় হঠাৎ করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। এখন আইনগতভাবে যা করার সুযোগ আছে, তা করবো।’


সর্বশেষ সংবাদ