দলবাজ শিক্ষকদের আমাদের নেতা হিসেবে কেন নির্বাচন করি?

রুশাদ ফরিদী
রুশাদ ফরিদী  © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি শিক্ষকদের জন্য বুস্টার ডোজের ব্যবস্থা করেছে। এটা আপাত দৃষ্টিতে বেশ প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু মনে একটা প্রশ্ন আসে। সেটা হলো এই দায়িত্ব কি শিক্ষক সমিতির? এটা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দায়িত্ব না?

শিক্ষক সমিতির মূল দায়িত্ব হলো প্রশাসনের সাথে দর কষাকষি করে সাধারণ শিক্ষকের অধিকার আদায় করা। কিন্তু এখনকার শিক্ষক সমিতি আর প্রশাসন মিলে মিশে একাকার। শিক্ষক সমিতির সবচেয়ে বড় ভূমিকা তখনই থাকে যখন একজন শিক্ষকের প্রতি কোন অন্যায় আচরণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা অন্য কেউ করলে সেটির প্রতিবাদ জানানো অথবা প্রতিকারের চেষ্টা করা।

আরও পড়ুন: আশরাফুল সম্পর্কে কটুক্তি বর্জনীয়

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক সত্তুরের উপর বয়সী ড. তাজমেরী ইসলামকে একটা পুরনো মামলায় হঠাৎ গ্রেফতার দেখিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হলো। তাঁর মূল অপরাধ হলো তিনি বিএনপি ভাবাপন্ন নেতৃস্থানীয় শিক্ষিকা ছিলেন।

আমি তাজমেরী আপার কোন ফ্যান না। ইন ফ্যাক্ট ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময়ে উনার অপরাজনীতি আমি খুবই অপছন্দ করতাম। যেইভাবে এখন অপছন্দ করি নীল মার্কায় আত্মা বিক্রি করে দেয়া শিক্ষকদের। কিন্তু কোন দল সমর্থন তো ক্রাইম না। তাই বিএনপির সমর্থক এটাই যদি অপরাধ হয় আর জেলে যেতে হয় তাহলে এর চেয়ে বড় নিপীড়ন একজন শিক্ষকের উপর আর কি হতে পারে?

আরও পড়ুন: একটি স্কুল এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প

এই নিয়ে বিবিসি শিক্ষক সমিতির বক্তব্য জানতে চাইলে তেনারা বলেন যে উনি একজন প্রাক্তন অধ্যাপক তাই এই নিয়ে উনাদের কিছু বলার নাই। অথচ এনারাই যখন আলজাজিরার ডকুমেন্টারী বের হয় তখন এর প্রতিবাদ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

আরো আছে। তাজমেরী ইসলাম না হয় প্রাক্তন অধ্যাপক, কিন্তু জোবায়দা নাসরীনের মতন বর্তমানে চাকুরীরত একজন শিক্ষিকাকে ছাত্রলীগের মেয়েরা শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করার পর শিক্ষক সমিতির মিন মিনে আচরণ আর কথা বার্তা চোখের সামনেই দেখেছি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা সাধারণ শিক্ষক শিক্ষিকারা দলে দলে ভোট দিয়ে এইসব দলবাজ শিক্ষকদের আমাদের নেতা হিসেবে কেন নির্বাচন করি? বুস্টার ডোজের জন্য?

লেখক: শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


সর্বশেষ সংবাদ