ষষ্ঠশ্রেণির ছাত্রীকে হত্যাচেষ্টা করেন তারই বান্ধবীর মা, ক্ষুর উদ্ধার
কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ি এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে তারই ঘনিষ্ট বান্ধবীর মা। রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোটবাড়ি সড়কের রামমালা এলাকার ‘আদর্শ ক্রিস্টাল গার্ডেন সিটি’ নামক ভবনের নবম তলায় ওই ছাত্রীদের ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
আহত স্কুলছাত্রীর নাম নাবিলা তাবাসসুম চৌধুরী (১২)। সে টমছমব্রিজ এলাকার ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত জেসমিন নাবিলার বান্ধবী সুমনার মা। নাবিলার বান্ধবী জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা (১৩) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা পাশাপাশি বাসায় থাকেন।
স্থানীদের বরাতে জানা যায়, নাবিলা ও সুমনা খুবই ভালো বন্ধু হওয়ায় নাবিলাদের বাসায় প্রায়ই আসা-যাওয়া করতেন। রবিবার বিকেলে নাবিলা ও তাদের আরেক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। সন্ধ্যার পর তারা বাসায় ফিরে এসে নিজ নিজ বাসায় চলে যায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাবিলার মা শরীফা চৌধুরীর চিৎকারে ভবনের ভাড়াটিয়ারা সেখানে গিয়ে নাবিলকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা দ্রুত নাবিলাকে উদ্ধারে করে পাশের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।
নাবিলার মা শরীফা চৌধুরী বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাত ৯টার দিকে নিজের পালিত বিড়াল নিয়ে সুমনাদের বাসায় গিয়েছিল নাবিলা। গিয়ে সুমনাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে নাবিলা বাসায় এসে আমার সঙ্গে শুয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর সুমনার মা জেসমিন আক্তার আমাদের বাসায় আসেন।
আরও পড়ুন: ‘সার্টিফিকেট জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে’ বলেই ছিঁড়ে ফেলেন বাদশা।
এরপর তিনি কথা আছে বলে নাবিলাকে বেডরুম থেকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নিয়ে যান। একটু পরেই ধস্তাধস্তির আওয়াজ শুনে আমি গিয়ে দেখি, জেসমিন আমার মেয়ের মুখ চেপে ধরে তাকে ক্ষুর দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করছে। আমি দৌড়ে গিয়ে মেয়েকে বাঁচাতে গেলে জেসমিন আমাকেও হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এরপর আমি চিৎকার শুরু করলে সে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে অন্য ফ্ল্যাটের লোকজন মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, মেয়ের বান্ধবীর মা হওয়ায় জেসমিনের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু হঠাৎ তিনি কেন নাবিলাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন সেটা তিনি জানেন না। আমার মেয়ে কোনো অন্যায় করলে তিনি আমাকে বলতে পারতেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমার মেয়ে এখনে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তমাখা ক্ষুরটি উদ্ধার করেছে। কেন এ ঘটনা ঘটেছে, সেটা এখনো জানা যায়নি, তবে আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত নারী ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।