সহপাঠীর হাতে লাঞ্ছনার অভিযোগ ঢাবি ছাত্রীর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী তাঁর নিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীর হাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু লাঞ্ছনা নয় তাকে মেরে পা ভেঙ্গে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। তবে এই অভিযোগকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী।

এ ঘটনার বিচার দাবি করে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী আইন বিভাগের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগের একটি কপি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ আগষ্ট) এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম আরাফাতুল ওসমানী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী। থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দিন হলে।

আরও পড়ুন: মায়ের কিডনীতে বাঁচতে চায় ঢাবি ছাত্র সাজিদ, প্রয়োজন ১৫ লাখ টাকা

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, গত সোমবার (৭ আগষ্ট) তিনি দুপুর একটার দিকে ক্লাস শেষ করে আইন‌ বিভাগের মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় আরাফাতুল ওসমানী (অভিযুক্ত) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ করার এক পর্যায়ে মারতে উদ্যত হয়ে তার গায়ে হাত দেয়। এছাড়াও, তাকে মেরে পা ভেঙ্গে দেয়ারও হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মূলত ওর প্রেমিকার সাথে কি একটা ঝামেলা হয়েছিল। আর ওর প্রেমিকা হচ্ছে আমার বান্ধবী। আমি যখন হল মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন সে বলতেছে, ‘তুই ওর সাথে আর কথা বলবি না, কোথাও যাবি না।’ আমি তখন তার কথার জবাবে বলি যে আমি কেন তার সাথে কথা বলবো না সে তো আমার বান্ধবী।

‘এটা বলার পরেই সে আমার দিকে বার বার তেড়ে আসতেছিল। এমনকি আমার গায়েও হাত দিয়েছে এবং বারবার হুমকি দিচ্ছিলো যে মেরে আমার পা ভেঙ্গে দিবে। ওখানে উপস্থিত যারা তাকে আটকানোর চেষ্টা করছিলো। তা না হলে সে আমাকে হয়তো মেরে ফেলতো।’

তিনি বলেন, সে প্রথম বর্ষ থেকেই অনেকটা উগ্র টাইপের। এজন্য আমি তার সাথে কথা বলি না। সবসময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।

তবে অভিযোগের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরাফাতুল ওসমানী। তিনি বলেন, ‘অভিযোগকারিনী  এবং তার কিছু বন্ধু বেশ অনেকদিন থেকেই এমন একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো। যেখানে আমার নামে অভিযোগ করা যাবে এবং আমার সুনাম বিনষ্ট করা যাবে। এ উদ্দেশ্যে তারা নিয়মিত বিভিন্নভাবে আমাকে রাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতো, যেন আমার বিরুদ্ধে তারা এধরনের অভিযোগ জানাতে পারে।’

ওসমানী বলেন, ‘‘সম্প্রতি আমি তাদের প্ররোচনায় পড়ে, তার অকথ্য গালাগালি ও ‘স্যান্ডেল পেটা’ করার হুমকি সহ্য করতে না পেরে এবং আমাদের অন্য এক বান্ধবীকে সে মৌখিকভাবে অপমান ও শারীরিকভাবে আঘাত করতে যাচ্ছে দেখে প্রতিবাদ জানালে সে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগটা আনেন।’’

এদিকে এই বিষয়ে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম ( আসিফ নজরুল) তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, আজকে অভিযোগ পত্র আমার হাতে এসেছে। আমরা যথাযথ তদন্ত করবো‌। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমাদের পক্ষে যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার অবশ্যই সে ব্যবস্থা নিবো।


সর্বশেষ সংবাদ