৩০ মে ২০২২, ১৭:৫০

ছাত্রীদের ফোনে আপত্তিকর কথা ও ক্লাসে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেন তিনি

অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারী  © টিডিসি ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করায় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর চার বছরের ইনক্রিমেন্ট ও পদন্নোতি স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার (২৯ মে) রাতে অনুষ্ঠিত ৫১৪তম সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে আনীন তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক রেজিনা লাজ জানান, ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে ছাত্রীদের ফোন করে আপত্তিকর কথা বলা, ক্লাসে অশালীন অঙ্গভঙ্গিসহ বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত শেষে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়। তবে এ শিক্ষককের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শারীরিকভাবে কোন হেনস্থার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। 

তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের প্রদত্ত শাস্তির থেকে আর একটু বেশি সুপারিশ করা হলেও সবকিছু পর্যালোচনা করে চার বছর পদন্নোতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। কিন্তু শাস্তি কতটুকু বেশি ছিল, গোপনীয়তার স্বার্থে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তদন্ত কমিটির এ আহ্বায়ক। 

শাস্তির বিষয়ে জানতে সিন্ডিকেট সদস্য আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগর জানান, সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। তাদের আনীত সুপারিশ পর্যালোচনা করে এ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। 

এর আগে, ২০১৯ সালের ২৫ ও ২৭ জুন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থী উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ আনেন। পরবর্তীতে ২ জুলাই অভিযোগ আমলে নিয়ে ৭ সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রেজিনা লাজ।

তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০৪তম সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এ শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে ছয় বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।