২৫ মে ২০২২, ২০:১৫

টার্গেট ছিল সিনেট নির্বাচন বানচালের, ৫ কারণে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে একটি মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মামলায় অজ্ঞাত তিন থেকে চারশ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচন বানচাল করা এ হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৫ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহ মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেন। এর আগে হামলার ঘটনার পর গতকাল মঙ্গলবার শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী এস্টেট ম্যানেজার মো. আলী আশ্রাফ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন হচ্ছিল। এ সময় একদল দুষ্কৃতকারী লাঠি, রড ও নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগের সামনে এক জোট হয়ে নির্বাচন বানচাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করতে অপতৎপরতা শুরু করে। বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানালে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এতে আরও বলা হয়, গত ২৪ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুনরায় শিক্ষা ভবনের সামনের দিক থেকে ৩০০-৪০০ জন দুষ্কৃতকারী কার্জন হলের গেট দিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় গেটের নিরাপত্তা প্রহরী কামাল হোসেন তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার মাথায় লাঠি ও রড দিয়ে আঘাত করতে গেলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার হাত জখম হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বহনে ব্যবহার করা দুটি বিআরটিসি বাস ভাঙচুর করে জাতীয় সম্পদ নষ্ট করা হয়।

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাবির মামলা, আসামি ৪০০

আরও পড়ুন: ঢাবি সিনেট নির্বাচনে এবারও নীলদলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দুটি ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্পদহানী, জাতীয় সম্পদ নষ্ট, পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নষ্ট, সিনেট শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা এবং নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ওপর হামলার দায়ে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের মূল টার্গেট ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম সিনেট নির্বাচন বানচাল করা। কার্জন হলে কর্তব্যরত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকরমীকেও তারা আক্রমণ করেছে। সংঘর্ষে যারা ছিল তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের শনাক্ত করে আমাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। পুলিশ তাদের তদন্তের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

শাহবাগ থানার ওসি মওদূত হাওলাদার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নষ্ট করা, সরকারি কাজে বাঁধাদান, নিরাপত্তা কর্মীদের মারধর, বাস ভাঙচুর করার অভিযোগে অজ্ঞাতনামায় তিনশ থেকে চারশ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে। এ মামলায় আটক ২ জনকে কোর্টে চালান করেছি।