২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৩২

শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে ছাত্রলীগের মতবিনিময় সভা

  © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংকট ও সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে শাখা ছাত্রলীগ। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে হলের শহীদ ড. আবুল খায়ের মিলনায়তনে হলের বিভিন্ন বর্ষের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনের সঞ্চালনায় ও হল ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া।

এ সময় শিক্ষার্থীরা হলটির বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের বিষয় নিয়ে কথা বলে। এর মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই হলের খাবারের মান বৃদ্ধি, ক্যান্টিনের খাবারের মান, খাবারের দাম বৃদ্ধি, হলের ভেতরে ফার্মেসীর দোকান বা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা, বিকাশ বা নগদের ব্যবস্থা করা, লন্ড্রীর দোকান ও দর্জির দোকানে দাম বৃদ্ধি, পুকুর পরিষ্কার করা, পলাশির দিকের গেইটের দারোয়ানের ব্যবস্থা করা, হলের প্রতিটি ব্লকে পানির ফিল্টারের ব্যবস্থা করা, এক্সটেনশন বিল্ডিং-এ শব্দ সমস্যা, হলের ময়লা ও আবর্জনাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা, নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানো, মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডের পরিসর বাড়ানো এবং বাইসাইকেলের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি সাইকেল স্ট্যান্ড বানানো, হলের ল্যাবে কম্পিউটারের সমস্যা, গণরুম সমস্যা, হলের ওয়াইফাই প্রভৃতি সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

সমস্যা তুলে ধরে তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুক্তার বলেন, আমাদের দোকানের খাবারের দাম বেশি ও মান খুবই বাজে। আমরা বেশি দাম দিয়েও সুষম খাবার খেতে পাইনা। এছাড়াও হলের পুকুর পাড়ের বসার সিট ও জায়গাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো দ্রুতই ঠিক করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা শুনে সভাপতির বক্তব্যে কামাল উদ্দিন রানা বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবো। আজকে যেসব সমস্যার কথা এসেছে সেগুলো সমাধানের জন্য আগামীকাল থেকেই কাজে নেমে যাবো। শিক্ষার্থীদের যেন নূন্যতম অসুবিধা না হয় সেজন্য আমরা সবসময় খেয়াল রাখবো।

এসময় ক্যান্টিন মালিক, দোকানের মালিক, লন্ড্রি, সেলুন, দর্জির মালিকদেরকে শিক্ষার্থীদের সমস্যা যাতে না হয় সেভাবে কাজ করার জন্য বলেন। এছাড়াও, খাবারের মান বৃদ্ধির জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। এসময়ের মধ্যে খাবারের মান ভালো না হলে পরবর্তী বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ারও হুঁশিয়ার দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা, আমরা হল নিয়ে কাজ করছি। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো যেভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা হয় সেভাবে কাজ করবো।